ডিজিটাল দুনিয়ায় কড়া নজরদারি, কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা হাতে পাচ্ছে একাধিক মন্ত্রক
নিজস্ব সংবাদদাতা: সমাজমাধ্যমের ‘লাগাম’ কি আরও শক্ত হতে চলেছে? কেন্দ্রের সাম্প্রতিক এক পরিকল্পনায় তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। এতদিন পর্যন্ত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে কোনও নির্দিষ্ট কনটেন্ট বা পোস্ট ব্লক করার চূড়ান্ত ক্ষমতা ছিল মূলত তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের হাতে। তবে সূত্রের খবর, এবার সেই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে চাইছে মোদী সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের পাশাপাশি আরও অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রককে এই ক্ষমতা দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত এই তালিকায় রয়েছে স্বরাষ্ট্র, বিদেশ, প্রতিরক্ষা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জাতীয় নিরাপত্তা, বৈদেশিক সম্পর্ক বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে এই মন্ত্রকগুলো সরাসরি সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলোকে বিতর্কিত পোস্ট বা ভিডিও সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতে পারবে।
কেন এই নয়া পদক্ষেপ?
দিল্লির অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, মূলত ডিজিটাল নিরাপত্তার গতি বাড়াতেই এই ভাবনা। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-জেনারেটেড ‘ডিপফেক’ ভিডিও যে ভাবে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তা রুখতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রতিরক্ষা বা বিদেশি রাষ্ট্র সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলো অনেক বেশি ওয়াকিবহাল। ফলে সরাসরি ক্ষমতা দেওয়া থাকলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বদল:
বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৯(এ) ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার ইন্টারনেট কনটেন্ট ব্লক করতে পারে। সম্প্রতি আইনি সংশোধনের মাধ্যমে কনটেন্ট সরানোর সময়সীমাও কমিয়ে আনা হয়েছে। কোনো পোস্ট যদি দেশের সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তার পরিপন্থী হয়, তবে তা সরাতে এখন মাত্র ৩ ঘণ্টা সময় দেওয়া হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় মন্ত্রকগুলোর হাতে সরাসরি ক্ষমতা গেলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিন্তায় সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলো:
ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এতদিন একটি নির্দিষ্ট নোডাল এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করত। কিন্তু এখন যদি একাধিক সরকারি দফতর থেকে আলাদা আলাদা নির্দেশ আসতে থাকে, তবে তা সামলানো বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। অন্য দিকে, বাক-স্বাধীনতা কর্মীদের মতে, এই অতিরিক্ত ক্ষমতা অনেক সময় সেন্সরশিপের ভয় তৈরি করতে পারে।
যদিও কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কেবল সাধারণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’কে আরও সুরক্ষিত রাখা।
