দুয়ারে লক্ষণ, শিল্পনগরীর ‘ক্ষতে’ শাণ দিচ্ছে পদ্ম

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: পঞ্জিকার হিসেবে চৈত্র মাস আসতে ঢের দেরি। কিন্তু রাজনীতির পারদ এখনই চড়চড়িয়ে বাড়ছে শিল্পাঞ্চলে। ঘামঝরানো রোদ মাথায় নিয়েই বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলিতে ঘুরলেন বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই। হাতে লিফলেট আর মুখে বিরামহীন তৃণমূল-বিদ্বেষ। ভোট-যুদ্ধের ময়দানে এ বার তাঁর তূণ থেকে বেরোল অনুন্নয়নের তির। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল অবশ্য এই অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ।
এ দিন সকাল থেকেই কর্মীদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার সারেন লক্ষণবাবু। ভোট-বৈতরণী পার হতে তাঁর তুরুপের তাস পুরসভার ভোট না হওয়া এবং পরিষেবা বিড়ম্বনা। প্রাক্তন বিধায়কের সপাট অভিযোগ, “শিল্পনগরী এখন অন্ধকারের তলায়। না আছে আলো, না আছে পর্যাপ্ত পানীয় জল। দীর্ঘ সময় ধরে নগর নিগমে ভোট হয়নি, ফলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। উন্নয়নের বদলে নেতাদের ব্যক্তিগত পকেট ভরাই এখানে অগ্রাধিকার পেয়েছে।”
দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূলের ডাকসাইটে নেতা কবি দত্ত। তাঁর নাম না করে লক্ষণের কটাক্ষ, “মানুষ এ বার আর চটকদার কথায় ভুলবেন না। দশ বছর আগে দুর্গাপুর যা ছিল, আজ তার চেয়েও পিছিয়ে গিয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পাঞ্চলে পানীয় জল এবং বেহাল রাস্তার সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিজেপি সেই পুরোনো ক্ষতকেই ফের খুঁচিয়ে দিতে চাইছে। যদিও এই অভিযোগের পাল্টা জবাবে তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য, উন্নয়ন হয়েছে বলেই মানুষ বারবার জোড়াফুলে আস্থা রাখছেন। গত কয়েক বছরে কী কী কাজ হয়েছে, তার তালিকা নিয়ে ভোটারদের দরজায় যাবেন তাঁরাও।
তবে অভিযোগ আর পালটা অভিযোগের এই দড়ি টানাটানির মাঝে সাধারণ ভোটাররা কী ভাবছেন? চায়ের দোকানে বা পাড়ার মোড়ে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য সুর। অনেকেই বলছেন, “ভোটের আগে কথা তো সবাই দেয়, কিন্তু গলার কাছে জলের তেষ্টা আর রাস্তার গর্তগুলো কবে মিটবে, সেটাই আসল প্রশ্ন।” লক্ষণের এই বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ ভোটে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *