নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর: বসন্তের বিকেলে শিল্পাঞ্চলের পারদকে হার মানাল রাজনীতির উত্তাপ। ক্ষুদিরাম মাঠ সংলগ্ন গেরুয়া শিবিরের কার্যালয় থেকে যখন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ভাষণ শুরু করলেন, তখন তাতে কেবল যুক্তি নয়, মিশে ছিল ঝাঁঝালো আক্রমণ আর তীক্ষ্ণ কটাক্ষ। লক্ষ্য একটাই— ঘাসফুল শিবির। আর সেই আক্রমণ শানাতে গিয়ে সৌমিত্রের মুখে উঠে এল ‘গরম জল’ থেকে ‘ডান্ডা’র দাওয়াই।
চোর তাড়াতে নয়া দাওয়াই
এদিন জনসভা থেকে তৃণমূলকে সরাসরি ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে সৌমিত্রের হুঙ্কার, “চোর বাড়ির কাছে এলে গরম জল আর ডান্ডা রেডি রাখুন।” তবে কেবল শারীরিক বাধার কথা বলেই থেমে থাকেননি তিনি। কৌশলে ভোটারদের ইভিএমের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের আঙুলই হলো আসল লাঠি। ভোটের দিন ওই আঙুল ব্যবহার করেই চোরদের যোগ্য জবাব দিন।”
সাংসদের দাবি, তৃণমূলকে উৎখাত করতে হলে সাধারণ মানুষকে কেবল ভোট দিলে হবে না, একজোট হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।
শিল্পের দুর্গাপুর আজ ‘বৃদ্ধাশ্রম’
দুর্গাপুরের বর্তমান শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে শাসকদলকে তুলোধোনা করেন সৌমিত্র খাঁ। তাঁর আক্ষেপ, যে শহর একসময় কাজের সংস্থানে টগবগ করত, আজ তা ‘বৃদ্ধাশ্রম’-এ পরিণত হয়েছে।তিনি অভিযোগ করেন, কর্মসংস্থান নেই বলেই রাজ্যের যুবক-যুবতীরা ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন।একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন কেন্দ্রীয় সরকারের হাত ধরে দুর্গাপুরকে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর’ করার স্বপ্ন দেখান তিনি। বন্ধ হয়ে যাওয়া তিনটি কারখানা পুনরায় খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো হবে।”
ব্যক্তিগত আক্রমণ ও দুর্নীতির তির
তৃণমূলের স্থানীয় প্রার্থী থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব— কাউকেই রেয়াত করেননি সৌমিত্র। তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রে ছিলেন ‘ভাইপো’, ‘কবি দত্ত’ এবং ‘কীর্তি আজাদ’।“সবাই মিলেমিশে একাকার। চোরেরা সব জোট বেঁধেছে,” এভাবেই বিরোধীদের আক্রমণ করেন তিনি।হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তদন্তের চিঠি পাওয়ার পর তা ফেরত চাওয়া হলো? সাংসদের স্পষ্ট কথা, “তৃণমূল কেবল কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বিরোধিতা করতে জানে, কাজের জন্য দরবার করতে নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌমিত্র খাঁ-এর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ শিল্পাঞ্চলের ভোটে মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করল। একদিকে উন্নয়নের কেন্দ্রীয় মডেল, অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগ— এই দুই অস্ত্রেই এখন শান দিচ্ছে বিজেপি।