দেশব্যাপী শিল্প ধর্মঘটের প্রভাব দুর্গাপুরে, ইস্পাত কারখানার গেটে বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: কেন্দ্রের ‘জনবিরোধী’ শ্রমনীতি, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের বেসরকারিকরণ এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ১০টি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘটের আঁচ পড়ল শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার (ডিএসপি) প্রধান গেট চত্বরে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের জমায়েত ও স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অন্যদিকে, ধর্মঘটের বিরোধিতা করে পাল্টা ময়দানে নামে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনও।এদিন ভোরের আলো ফুটতেই দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেন গেটের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা। হাতে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তাঁরা। শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধা না দিলেও, গেটের সামনে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ চলে। ধর্মঘটের সমর্থনে দফায় দফায় মিছিলে শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান নিশানায় ছিল কেন্দ্রের প্রস্তাবিত শ্রম আইন সংশোধন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর বিলগ্নীকরণ। সিটু (CITU) নেতা স্বপন মজুমদার বলেন”কেন্দ্রের নীতির ফলে আজ শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার খর্ব হচ্ছে। স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করে চুক্তিভিত্তিক প্রথাকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প সংস্থাগুলিকে কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার যে চক্রান্ত চলছে, তার বিরুদ্ধেই আমাদের এই লড়াই।”
অন্যদিকে ধর্মঘটের বিরোধিতায় পাল্টা সক্রিয় তৃণমূল।ধর্মঘটের প্রভাব রুখতে সকাল থেকেই কারখানার গেটে সক্রিয় ছিলেন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। আইএনটিটিইউসি (INTTUC) কোর কমিটির সদস্য মানস অধিকারী ধর্মঘটের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এই ধরনের বনধ বা ধর্মঘট করে শিল্পের কোনো উন্নতি হয় না, উল্টে উৎপাদন ব্যাহত হয়। সাধারণ শ্রমিকদের রোজগারে টান পড়ে। আমরা কারখানার চাকা সচল রাখার পক্ষে।” তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের নির্ভয়ে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কার্যত কারখানার ভেতরে উৎপাদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও, গেটের বাইরের আন্দোলনে শ্রমিকদের উপস্থিতিতে কিছুটা টান লক্ষ্য করা গেছে। তবে পুলিশি তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূল—দুই শিবিরের অনড় অবস্থানে সরগরম দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল।
