নির্মাণের ১০ মাসেই বিপত্তি! মেমারিতে ধসে পড়ল ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সাইড ওয়াল
নিজস্ব সংবাদদাতা: ফের একবার জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের কাজের মান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠল। বুধবার সকালে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার সরডাঙা এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের (দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে) ধারের একটি সুবিশাল সাইড ওয়াল বা রিটেনিং ওয়াল হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে।চালুর মাত্র ১০ মাসের মধ্যে ৫০-৬০ ফুট রাস্তা ভেঙে পড়ায় কলকাতা মুখী লেন বন্ধ হয়ে গেছে এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি বর্ধমানমুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে হঠাৎ করেই সরডাঙা এলাকায় রাস্তার ধারের ওই দেওয়ালটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ব্যস্ততম এই এক্সপ্রেসওয়েতে দিনের আলোয় এই ধস নামায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পথচারী ও চালকরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মেমারি থানার পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং বড়সড় বিপর্যয় এড়াতে তৎক্ষণাৎ ওই লেনটি ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। বর্তমানে সার্ভিস রোড দিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আশঙ্কা
এলাকার এক বাসিন্দা জানান,”ঘটনাটি দিনের বেলায় ঘটায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। চালকরা দেখতে পাওয়ায় গাড়ি সামলে নিয়েছেন। কিন্তু রাতে এই ঘটনা ঘটলে বড় কোনো প্রাণহানি ঘটতে পারত।”
বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাত্র ৬ মাস আগে এই সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ হয়েছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে একটি পোক্ত দেওয়াল ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণের সময় অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় এবং সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ তুলেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
ইতিমধ্যেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,দ্রুত দেওয়ালটি মেরামত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।রাস্তাটি দ্রুত যান চলাচলের উপযুক্ত করে তোলার চেষ্টা চলছে।তবে মেরামতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় যানজটের আশঙ্কা থাকছেই।
নিম্নমানের কাজের অভিযোগে এখন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন এলাকাবাসী।
