নেট-দুনিয়ায় কড়া নজর কমিশনের, ভোটের বিজ্ঞাপনে এবার ‘ছাঁকনি’ এমসিএমসি-র

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ১৯৫১-র জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের খাঁড়া এবার আরও ধারালো। কেবল রাজপথ বা জনসভা নয়, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ভার্চুয়াল’ গতিবিধিতেও কড়া বেড়ি পরাল নির্বাচন কমিশন। ফেসবুক, এক্স (প্রাক্তন টুইটার) বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো সমাজমাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেওয়ার আগে নিতে হবে ‘প্রাক-অনুমোদন’ বা প্রি-সার্টিফিকেশন। শুক্রবার এক নির্দেশিকায় কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি (MCMC)-র ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা যাবে না।
নজরদারির জাল: নিস্তার নেই নেট-নাগরিকদেরও
গত ১৫ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে কমিশন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ডিজিটাল প্রচারের রাশ টানতে সক্রিয় হয়েছে ‘দিল্লি’।
পদ্ধতি: কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী বা ব্যক্তি বিজ্ঞাপনের অনুমতির জন্য জেলা স্তরের এমসিএমসি-র দ্বারস্থ হতে পারবেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে যেতে হবে রাজ্য স্তরের কমিটির কাছে।
পরিধি: শুধু টিভি বা রেডিও নয়, ই-পেপার, বাল্ক এসএমএস, এমনকি জনসভার অডিও-ভিস্যুয়াল ডিসপ্লেও থাকবে এই নজরদারির আওতায়।
আপিল: কমিটির সিদ্ধান্তে কোনো দল ক্ষুব্ধ হলে সিইও-র (CEO) নেতৃত্বাধীন উচ্চতর কমিটির কাছে আবেদন করার পথও খোলা রাখা হয়েছে।
হলফনামায় ‘ইউজার আইডি’, খরচেও কড়া পাহারা
এ বারের ভোটে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিয়েও বাড়তি সতর্ক কমিশন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে তাঁদের প্রতিটি ‘অকৃত্রিম’ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের হদিশ দিতে হবে হলফনামায়। এখানেই শেষ নয়, ভোট মেটার ৭৫ দিনের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের পাই-পয়সা হিসেবও জমা দিতে হবে কমিশনকে। ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি থেকে শুরু করে অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ— সব খরচই যুক্ত হবে প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের খাতায়।
ভুয়ো খবরের ‘ভাইরাস’ রুখতে তৎপরতা
বৃহস্পতিবারই সমস্ত ভোটমুখী রাজ্যের পুলিশ ও আইটি নোডাল অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা। সেখানে হাজির ছিলেন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিরাও। মূল লক্ষ্য একটাই— ‘পেইড নিউজ’ এবং ‘ভুয়ো খবর’ (ফেক নিউজ)-এর বাড়বাড়ন্ত রুখে দেওয়া। ভুল তথ্য ছড়ালে বা প্ররোচনামূলক প্রচার চললে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব যে হারে বেড়েছে, তাতে এই ‘সেন্সরশিপ’ কার্যত সময়ের দাবি ছিল। তবে প্রশ্ন উঠছে, ইন্টারনেটের এই বিশাল সমুদ্রে প্রতিটি পোস্টের ওপর নজরদারি চালানো কি আদেও সম্ভব? কমিশনের আশ্বাস, প্রযুক্তির মাধ্যমেই মোকাবিলা করা হবে প্রযুক্তির অপব্যবহারের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *