সঙ্কেত ডেস্ক:পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে দেশের জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা দিতে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। স্ট্রেইট অফ হরমুজ বন্ধ থাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলায় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে দেশে বর্তমানে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি-র পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার পরামর্শ দিয়েছে।
জ্বালানি সংকট রুখতে বিকল্প পথের ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলপিজি-র ঘাটতি মেটাতে রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং ক্যানটিনগুলিকে দ্রুত পাইপলাইনের গ্যাস বা পিএনজি সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সমস্ত সরকারি দফতর ও ক্যানটিনগুলিকেও অবিলম্বে পিএনজি-তে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্যিক এলপিজি-র বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হলেও সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেই এই ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি এলপিজি-র ওপর চাপ কমাতে রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত ৪৮,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে এবং কয়লা মন্ত্রককে কয়লার জোগান বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে রাজ্যগুলিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি। ইতিমধ্যেই বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর মতো বিভিন্ন রাজ্যে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি জায়গায় হানা দিয়ে প্রচুর সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও তৎপর হয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজ ও ৬১১ জন নাবিকের পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ ভারতীয় ওই অঞ্চল থেকে দেশে ফিরেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব ও ওমান থেকে নিয়মিত বিমান চললেও কুয়েত ও বাহারিনের আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে ভারতীয়দের ফেরানোর কাজ চলছে। পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিরতায় এ পর্যন্ত ছয় জন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের দেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে বিদেশের ভারতীয় মিশনগুলি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাই এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।