প্রার্থীতালিকা বেরোতেই ময়দানে চন্দ্রশেখর, মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রাক্তন মেয়রের দুয়ারে বিজেপি প্রার্থী

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নাম ঘোষণা হয়েছে সোমবার রাতেই। আর মঙ্গলবার সকাল হতেই ‘আউটিং’-এ নেমে পড়লেন দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। স্রেফ কর্মীদের নিয়ে মিছিলে হাঁটা নয়, ঘরের ছেলের মতো কখনও দেওয়ালে চুন-কামারি করলেন, আবার কখনও পৌঁছে গেলেন খোদ প্রাক্তন মেয়রের অন্দরে। রাজনৈতিক সৌজন্য নাকি রণকৌশল— প্রার্থীর এই ‘মুভ’ নিয়ে ইতিমধ্য়েই শিল্পাঞ্চলের চায়ের দোকানে তুঙ্গে উঠেছে চর্চা।
ভৈরব থেকে রাম মন্দিরে প্রণাম
মঙ্গলবার সকালের সূর্য তখন সবে সগড়ভাঙার আকাশ ছুঁয়েছে। কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সগড়ভাঙা ভৈরব মন্দিরে পুজো দেন চন্দ্রশেখরবাবু। কপালে তিলক কেটেই সোজা পৌঁছে যান ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে তখন কর্মীরা তৈরিই ছিলেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত চেনা মুখগুলোকে পাশে নিয়ে নিজেই তুলি হাতে ধরলেন প্রার্থী। দেওয়াল লিখনে দু-এক হাত লাগিয়েই শুরু করলেন ‘ডোর-টু-ডোর’ বা বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ। এরপর সেখান থেকে তাঁর গন্তব্য ছিল মুচিপাড়া রাম মন্দির। সেখানেও ভক্তিভরে পুজো দিয়ে এলাকার প্রবীণদের আশীর্বাদ নিতে দেখা যায় তাঁকে।
সৌজন্যের রাজনীতি: মেয়রের দরবারে প্রার্থী
তবে দিনের সবথেকে বড় চমকটি তুলে রেখেছিলেন দুপুরের জন্য। খোদ দুর্গাপুর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র দিলীপ আগস্তির বাড়িতে অতর্কিতে পৌঁছে যান বিজেপি প্রার্থী। যুযুধান দুই শিবিরের এমন সৌজন্য সাক্ষাৎ শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে সচরাচর দেখা যায় না। দিলীপবাবুর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন চন্দ্রশেখর। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট মানেই তো কেবল কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, অভিজ্ঞদের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন আদতে ভোটারদের মন জয়ের এক সুক্ষ্ম চাল।
আত্মবিশ্বাসী পদ্ম-শিবির
প্রচার সেরে বেরোনোর পথে বিজেপি প্রার্থীর গলায় শোনা গেল জয়ের সুর। তিনি বলেন, “আমি এই মাটিরই ছেলে। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকাটাই আমার লক্ষ্য। মানুষের আশীর্বাদই আমার প্রধান পুঁজি।” যদিও বিপক্ষ শিবির এই তৎপরতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তবে প্রথম দিনের প্রচারেই চন্দ্রশেখর বুঝিয়ে দিলেন, দুর্গাপুর পূর্বের লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও তিনি বিনা যুদ্ধে ছাড়বেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *