বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুর্গাপুরে ৪৫তম কল্পতরু মেলার শুভ সূচনা
নিজস্ব প্রতিনিধি: কল্পতরু এমন এক বিশেষ বৃক্ষ, যার কাছে প্রার্থনা জানালে তা পূরণ হয় বলে বিশ্বাস। ‘কল্প’ অর্থ ইচ্ছা এবং ‘তরু’ অর্থ বৃক্ষ। এই বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারির ঐতিহাসিক দিন, যেদিন ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেব “কল্পতরু” হন। সেই দিনটির স্মরণেই প্রতিবছর কল্পতরু উৎসব পালিত হয়ে আসছে।এই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুরের গামন ব্রিজ ফুটবল মাঠে শুভ সূচনা হলো ৪৫তম কল্পতরু মেলার।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম, ‘আড্ডা’র চেয়ারম্যান কবি দত্ত, মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস, দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্যরা এবং মেলা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
বিগত বছরের মতো এবছরও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের ত্রাণ তহবিলে ২০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। মেলা কমিটির সদস্য দীপঙ্কর লাহা জানান, এই উৎসব শুধু বিনোদনের নয়, মানুষের সাহায্য ও সমাজ উন্নয়নের একটি বড় মাধ্যম। সকল স্তরের মানুষের মিলনক্ষেত্র হিসেবেই কল্পতরু উৎসবকে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
এবছর কল্পতরু মেলায় ২৫০টিরও বেশি স্টল বসেছে। খাবার, পোশাক, খেলনা ও স্থানীয় হস্তশিল্পের পাশাপাশি রয়েছে বইমেলা, যা দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ। মেলার সাংস্কৃতিক দিকও নজরকাড়া। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলার মোহর মঞ্চে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি জাতীয় স্তরের শিল্পীরাও অংশ নিচ্ছেন।
মেলার নিরাপত্তায় আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।আশপাশের জেলার মানুষজনও মেলায় অংশ নিচ্ছেন। মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ভালো সাড়া পাচ্ছেন। এক ব্যবসায়ীর কথায়, এই মেলা তাঁদের জন্য বছরে বড় সুযোগ, যার মাধ্যমে বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি নতুন ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়।
