বাঁকুড়ার খাতড়ায় গাড়িতে বিপুল ফর্ম-৭ উদ্ধারে রাজনৈতিক ঝড়

সঙ্কেত ডেস্ক:বাঁকুড়ার খাতড়ায় একটি গাড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক এসআইআর ফর্ম-৭ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একটি ফর্মের ছবি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, গাড়িতে করে প্রায় ১০ হাজার ফর্ম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “ফাইলের পর ফাইল, বস্তা বস্তা কাগজ। এগুলো মানুষের অধিকার চুরি নয়? তথ্য চুরি হচ্ছে, গণতন্ত্র চুরি হচ্ছে। জীবিত মানুষকে মৃত বলে দেওয়া হচ্ছে।”

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ। খাতড়া সিনেমা রোড এলাকায় একটি গাড়িকে আটক করেন তৃণমূলের কর্মীরা। গাড়ির সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। পরে গাড়ি ও ওই দু’জনকে খাতড়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তৃণমূলের দাবি, উদ্ধার হওয়া ফর্ম-৭গুলি ব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। দলটির আরও দাবি, গাড়ির সঙ্গে আটক হওয়া দুই ব্যক্তি বিজেপির সদস্য।

এই ঘটনায় রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি বলেন, “উদ্দেশ্য একটাই, যেনতেন প্রকারে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। তৃণমূল কর্মীরা সেই চক্রান্ত রুখে দিয়েছেন।”

উল্লেখ্য, ফর্ম-৭ মূলত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোনও নামের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো বা মৃত কিংবা স্থানান্তরিত ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। সেই ফর্ম বিপুল পরিমাণে উদ্ধার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপি তৃণমূলের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, “আমাদের যেসব বিএলএ বিএলও-দের কাছে ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেননি, তাঁরা ফর্মগুলি একত্র করে গাড়িতে করে এইআরও-র কাছে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।”

সব মিলিয়ে খাতড়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *