বারাসতে নিপা আতঙ্ক: দুই নার্স লাইফ সাপোর্টে, রাজ্য জুড়ে সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদন:পশ্চিমবঙ্গে ফের নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে দুই নার্সকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তাঁদের একজন পুরুষ ও অন্যজন মহিলা। দু’জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।আক্রান্ত দুই নার্সের রক্তের নমুনা আইসিএমআর-এর অধীন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS), কল্যাণীর ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সদর দফতর স্বাস্থ্য ভবনে পৌঁছেছে।জানা গিয়েছে, আক্রান্ত সন্দেহভাজন দুই নার্সই ওই বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী। মহিলা নার্সের বাড়ি নদিয়ার কল্যাণীতে এবং পুরুষ নার্সের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, নিপা ভাইরাসের উচ্চ মৃত্যুহার এবং দ্রুত সংক্রমণের সম্ভাবনার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা, এমনকি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিবও রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং রাজ্য স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
নিপা ভাইরাস একটি মারাত্মক জুনোটিক ভাইরাস, যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। নিপা ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হল প্টেরোপাস প্রজাতির বৃহৎ ফলখেকো বাদুড়, যাদের ‘ফ্লাইং ফক্স’ বলা হয়। শূকরদের শরীরেও এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। নিপায় আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি, গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, চেতনা পরিবর্তন, তীব্র এনসেফালাইটিস, শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিপা ভাইরাসকে অগ্রাধিকারভুক্ত রোগ হিসেবে চিহ্নিত করলেও এখনও পর্যন্ত এই রোগের কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ বা অনুমোদিত চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। চিকিৎসকেরা উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে থাকেন এবং প্রয়োজনে রিবাভিরিনের মতো ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
এদিকে পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য দফতর সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পাশাপাশি অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *