বিশৃঙ্খলার জেরে এজলাস ছাড়লেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি, ঝুলেই রইল হাই-প্রোফাইল আই-প্যাক মামলার শুনানি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আইনজীবীদের প্রবল ভিড় আর লাগামহীন হইহট্টগোল। নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল কলকাতা হাইকোর্ট। যার জেরে আই-প্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলাটির শুনানি না করেই ক্ষোভে এজলাস ছাড়লেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। শুক্রবারের এই ঘটনার ফলে ঝুলেই রইল ইডি বনাম তৃণমূলের বহুচর্চিত আইনি লড়াই। আগামী ১৪ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল এজলাসে?
শুক্রবার দুপুর ২টো ৩৮ মিনিট নাগাদ বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে আই-প্যাক মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা ছিল। একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির মামলা, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘পার্টি’ করা হয়েছে; অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা মামলা। হাই-প্রোফাইল এই মামলাকে কেন্দ্র করে আদালত কক্ষে আইনজীবীদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়।
শুনানি শুরুর আগেই কামরার ভেতরে প্রবল চিৎকার ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিচারপতি বারবার আইনজীবীদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এবং আদালতের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে দেখে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি। চরম বিরক্তির সঙ্গে তিনি আসন ছেড়ে উঠে যান এবং জানিয়ে দেন, এই পরিবেশে বিচার প্রক্রিয়া চালানো অসম্ভব।
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তাঁর লিখিত নির্দেশে জানিয়েছেন, এজলাসের পরিবেশ এবং শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হওয়ার কারণেই এদিনের মতো শুনানি স্থগিত রাখা হচ্ছে। কোনো পক্ষকেই তাদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, শুক্রবার এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার কোনো ‘লাইভ স্ট্রিমিং’-এর ব্যবস্থাও ছিল না।

আই-প্যাক দফতরে ইডির তল্লাশিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং নথি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। ইডির দাবি তল্লাশিতে বাধা এবং তথ্যপ্রমাণ সংবলিত ডিজিটাল ডিভাইস ও ফাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
অন্যদিকে তৃণমূলের ইডির অভিযানকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এবং বাজেয়াপ্ত নথিপত্র ফেরতের দাবিতে পাল্টা মামলা করেছে শাসক দল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে এই মামলায় পক্ষভুক্ত করায় দেশজুড়ে আইনি মহলের নজর ছিল শুক্রবারের শুনানির দিকে। কিন্তু আদালতের অন্দরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলায় আপাতত থমকে গেল আইনি প্রক্রিয়া।আগামী ১৪ জানুয়ারি, বুধবার পুনরায় এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। আদালত সূত্রে খবর, সেদিন যাতে এদিনের মতো বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এখন দেখার, বুধবার শুনানি শুরু হলে আদালত ইডি-র দাবিমতো নথি উদ্ধার বা সিবিআই তদন্তের বিষয়ে কী পর্যবেক্ষণ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *