নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: শান্তিনিকেতনের একতারা কিংবা কৃষ্ণনগরের নিঁখুত মাটির পুতুল— বাংলার শিল্পীদের হাতের জাদু এবার আইনি শংসাপত্র নিয়ে বিশ্ববাজারে পা রাখতে চলেছে। নবান্ন সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী মোট ৪৬টি পণ্য বর্তমানে ‘জিআই’ (ভৌগোলিক স্বীকৃতি) পাওয়ার দৌড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। যার মধ্যে ২৪টি পণ্য ইতিমধ্যেই ‘জিআই জার্নালে’ জায়গা করে নিয়েছে। অর্থাৎ, স্বীকৃতির শীলমোহর পাওয়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত বাটিক ও একতারা। শিল্পীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে স্বীকৃতির পথে অনেকটা এগিয়েছে পুরুলিয়ার লাক্ষা, নতুনগ্রামের কাঠের পুতুল এবং ফুলিয়ার জামদানিও। তবে শুধু হস্তশিল্পই নয়, ভোজনরসিক বাঙালির জন্য রয়েছে মিষ্টি খবর। জনাইয়ের বিখ্যাত ‘মনোহরা’ এবং চন্দননগরের কিংবদন্তি ‘জলভরা’ সন্দেশও এখন বিশ্ব-স্বীকৃতির দোরগোড়ায়। জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার অর্থ হলো, এগুলির ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা প্রায় কেটে গিয়েছে।
তবে লড়াই এখনই থামছে না। আরও বেশ কিছু পণ্য নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই তালিকায় রয়েছে শান্তিনিকেতনের আলপনা ও বসিরহাটের গামছা। কয়েকটি ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কাছে অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে। পিছিয়ে নেই রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তও। ক্ষীরপাইয়ের বাবরসা, হুগলির রাবড়ি, ব্যান্ডেলের চিজ থেকে শুরু করে বেলপাহাড়ির পাথরের কাজ— প্রতিটিই রয়েছে স্বীকৃতির প্রাথমিক স্তরে। কালিম্পং-এর রুপোর কাজ ও বাগনানের চিকন এমব্রয়ডারিও এই দৌড়ে সামিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জিআই ট্যাগ মিললে শুধুমাত্র নামডাক বাড়বে তা নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির পথও প্রশস্ত হবে। এর ফলে গ্রামীণ হস্তশিল্পী ও কৃষকেরা তাঁদের শ্রমের সঠিক দাম পাবেন, যা রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বড়সড় জোয়ার আনতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সব মিলিয়ে, বাংলার ঘরোয়া সম্পদ এখন বিশ্বজয়ের অপেক্ষায়।