ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে শুল্ক ছাড়, রপ্তানিতে বড় সুযোগ; সংবেদনশীল খাতে সুরক্ষা বজায়

সঙ্কেত ডেস্ক: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ফলে একাধিক ক্ষেত্রে ভারতীয় রপ্তানির সামনে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। শুল্ক কাঠামোতে পরিবর্তনের ফলে বস্ত্র, সিল্ক, যন্ত্রপাতি, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন বাজারে প্রবেশ সহজ হবে বলে জানানো হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, আগে যে সব পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ছিল, তার বড় অংশে তা কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া সিল্ক বা রেশমজাত পণ্য ১১৩ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বাজারে এখন শূন্য শুল্কে রপ্তানি করা যাবে। যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ খাতে ৪৭৭ বিলিয়ন ডলারের বাজারে শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি হয়েছে।

কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেও স্বস্তির খবর রয়েছে। প্রায় ১.৩৬ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় কৃষিপণ্য এখন অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। মশলা, চা, কফি, ফল, বাদাম ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা মিলবে। তবে দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস, পোল্ট্রি ও খাদ্যশস্যের মতো সংবেদনশীল খাতে আমদানিতে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ১৮ শতাংশ প্রতিযোগিতামূলক শুল্ক হার, ১৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শূন্য শুল্ক এবং ৭২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক না দেওয়ার সুবিধা মিলবে। পাশাপাশি ২৩২টি শুল্ক তালিকার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার সুবিধাও পাবে ভারত।

২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার। নতুন শুল্ক কাঠামোর ফলে বস্ত্র, গয়না, চামড়া, গৃহসজ্জা, খেলনা, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ শিল্পের মতো প্রধান খাতগুলিতে রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশসহ একাধিক প্রতিযোগী দেশের তুলনায় ভারত কম শুল্কের সুবিধা পাওয়ায় প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।

চুক্তিতে কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। সংবেদনশীল খাতে নিয়ন্ত্রিত বাজার উন্মুক্তকরণ, পর্যায়ক্রমিক শুল্ক হ্রাস এবং ট্যারিফ রেট কোটা ব্যবস্থার মতো পদক্ষেপ রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল পরিষেবা ও স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় রপ্তানি বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *