ভূগর্ভস্থ জল ব্যবস্থাপনায় জোর কেন্দ্রের, একাধিক প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
নয়াদিল্লি, ২২ জানুয়ারি: দেশের জল নিরাপত্তা ও সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে ভূগর্ভস্থ জল ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ভারতে ৪৩,২২৮টি ভূগর্ভস্থ জলস্তর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, ৭১২টি জলশক্তি কেন্দ্র এবং ৫৩,২৬৪টি জলের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র নিয়ে একটি বিস্তৃত নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ জল কৃষি, পানীয় জল এবং শহরাঞ্চলের জলের চাহিদা পূরণে দেশের অন্যতম প্রধান উৎস। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন ও শিল্প সম্প্রসারণের ফলে এই জলের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানভিত্তিক ও সুস্থায়ী ভূগর্ভস্থ জল ব্যবস্থাপনাকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছে কেন্দ্র।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জলশক্তি অভিযান: ক্যাচ দ্য রেইন, জল সঞ্চয় জন অংশীদারী, অটল ভূজল যোজনা এবং মিশন অমৃত সরোবরের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণ ও পুনর্ভরণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। এই প্রকল্পগুলি স্থানীয় স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে জল সংরক্ষণকে আরও কার্যকর করেছে।
কেন্দ্রের মতে, কার্যকর ভূগর্ভস্থ জল ব্যবস্থাপনা সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা, বিশেষ করে SDG 6, SDG 11 এবং SDG 12 অর্জনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এই ব্যবস্থাপনার ভূমিকা অপরিসীম।
ভূগর্ভস্থ জলের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রুখতে কেন্দ্র একটি মডেল ভূগর্ভস্থ জল (নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা) বিল প্রণয়ন করেছে। ইতিমধ্যে ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই বিল গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, NAQUIM কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অধিকাংশ এলাকায় অ্যাকুইফার ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে এবং মাস্টার প্ল্যান ২০২০-এর আওতায় প্রায় ১.৪২ কোটি জল পুনর্ভরণ পরিকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মিশন অমৃত সরোবর প্রকল্পে ইতিমধ্যে ৬৮ হাজারের বেশি জলাশয় সম্পন্ন হয়েছে।
কেন্দ্রের বক্তব্য, নীতিগত সংস্কার, বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের অংশগ্রহণ এই চারটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করেই দেশের দীর্ঘমেয়াদী জল নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা হচ্ছে।
