ভোটার তালিকায় আর চলবে না বাতিল হওয়া ওবিসি শংসাপত্র: কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

সঙ্কেত ডেস্ক: ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১০ সালের পর যে সমস্ত অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) শংসাপত্র জারি করেছে, সেগুলি রাজ্যে ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর দাবি ও আপত্তি সংক্রান্ত শুনানিতে আর সহায়ক পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে না।
ইসিআই-এর এই স্পষ্টীকরণ এসেছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও-এর একক বেঞ্চের ২৪ ডিসেম্বরের নির্দেশের পর। ওই নির্দেশে কমিশনকে সাত দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছিল, ২০১০ সালের পর রাজ্য সরকার কর্তৃক জারি করা ওবিসি শংসাপত্রগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ায় সহায়ক নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে কি না। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার (সিইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসিআই জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো পরিস্থিতিতেই এই ধরনের ওবিসি শংসাপত্র সহায়ক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

এই নির্দেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তা (ইআরও), জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) এবং জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা (ডিইও)-দের উপর ন্যস্ত করেছে কমিশন।
এর আগে ডিসেম্বরে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ ইউনিট কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে দাবি করে, ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকার উপর দাবি ও আপত্তি সংক্রান্ত শুনানিতে ২০১০ সালের পর জারি করা ওবিসি শংসাপত্রগুলি যেন সহায়ক নথি হিসেবে গ্রহণ না করা হয়। ২৪ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও ইসিআই-কে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে নির্দেশ দেন।

আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, চলতি বছরের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তাপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক জারি করা সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দেয়। সেই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেয়, ভবিষ্যতে কোনো উদ্দেশ্যেই এই শংসাপত্রগুলি ব্যবহার করা যাবে না। তাই এসআইআর প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্যায়ে এগুলিকে পরিচয় প্রমাণের নথি হিসেবে গ্রহণ করা আইনসম্মত নয় বলে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় পরিচয় প্রমাণ হিসেবে ইসিআই মোট ১৩টি নথিকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যার মধ্যে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং ওবিসি শংসাপত্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ২০১০ সালের পর জারি হওয়া ওবিসি শংসাপত্রগুলি আর সেই তালিকায় কার্যকর থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *