ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ: এসডিএম দপ্তরে কংগ্রেসের তুলকালাম বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিনিধি,দূর্গাপুর: ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে উঠল মহকুমা শাসকের (SDO) দপ্তর চত্বর। জেলা কংগ্রেসের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত কংগ্রেস কর্মীরা এসডিও অফিসের প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং জোরালো স্লোগান ও প্রতিবাদ শুরু করেন।
বিক্ষোভের মূল কারণ
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর দাবি, বর্তমান ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন বা ঝুলে রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালীন জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আজকে নির্বাচন কমিশন বিজেপির হাতে তামাক খেয়ে সাধারণ গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে। যারা নির্বাচন সম্বন্ধে কিছুই জানে না, তাদের পশ্চিমবঙ্গে পাঠিয়ে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে সাধারণ জনগণের নাম কাটা হচ্ছে।”তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পদবীর বানানের পার্থক্য (যেমন—চট্টোপাধ্যায় ও চ্যাটার্জি) কিংবা বিয়ের পর মহিলাদের পদবী পরিবর্তনের মতো সাধারণ বিষয়গুলোকে ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ হিসেবে দেখিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা।
কংগ্রেস বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে
কোনো ভূমিপুত্র বা ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া চলবে না।যতদিন না একটি স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে, ততদিন কোনোভাবেই নির্বাচন করা যাবে না।অবিলম্বে বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ এসডিও দপ্তরের কাজকর্ম ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। এই ঘটনায় মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
