ভোটার তালিকায় নাগরিকত্ব যাচাই সাংবিধানিক দায়িত্ব, সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশন
সঙ্কেত ডেস্ক: ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাই করা নির্বাচন কমিশনের কোনও ঐচ্ছিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ভোটার তালিকার ‘নিবিড় সংশোধন’ (SIR) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, কোনও বিদেশি নাগরিক যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না পারেন, সেটাই এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য।
বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী। তিনি জানান, সংবিধানের ৩২৪ ও ৩২৬ অনুচ্ছেদের আওতায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত, যার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ভোটার তালিকা থেকে অ-নাগরিকদের বাদ দেওয়া।
শুনানিতে কমিশন আবেদনকারীদের সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে ভোটার তালিকাভুক্তির জন্য আধার কার্ডই যথেষ্ট। কমিশনের বক্তব্য, আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় এবং ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার প্রাথমিক শর্তই হলো ভারতীয় নাগরিকত্ব।
রাকেশ দ্বিবেদী আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের মতো শীর্ষ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। সংবিধানের ১২৪(৩) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি যুক্তি দেন, যখন দেশের সর্বোচ্চ পদগুলির জন্য নাগরিকত্ব অপরিহার্য, তখন ভোটার তালিকা প্রস্তুতের সময় নাগরিকত্ব যাচাই করা অনিবার্য।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে— এই আশঙ্কাও খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বিবেদী বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে মৃত্যু, ঠিকানা পরিবর্তন এবং নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয় বিবেচনায় আসে। এতে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয় না।
কমিশন আদালতকে জানায়, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব বাতিল করার চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। তবে নির্বাচন কমিশনের কাছে যদি প্রাথমিকভাবে মনে হয় যে কোনও ব্যক্তি ভারতের নাগরিক নন, তাহলে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
এই মামলাকে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। নাগরিকত্ব ও এনআরসি সংক্রান্ত বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার।
