ভোটার তালিকায় ‘সন্দেহভাজন’দের নোটিস পাঠাচ্ছে কমিশন, ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু শুনানি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে ‘সন্দেহভাজন’ নাম বাদ দিতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর (SIR)-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর, শুক্রবার ১৯ ডিসেম্বর থেকেই রাজ্যজুড়ে সন্দেহভাজন ভোটারদের বাড়িতে নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, এই নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মাথায় সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে পারে এই যাচাই প্রক্রিয়া।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বর্তমান ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের তুলনা করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে:

বংশলতিকা যাচাই: যদি বর্তমান কোনো ভোটারের নামের সাথে তাঁর বাবা-মা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমার নাম ২০০২ সালের তালিকার রেকর্ডের সঙ্গে না মেলে, তবে তাঁদের ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

নাগরিকত্ব ও পরিচয়: যাদের নাগরিকত্ব বা পরিচয় নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তাঁদেরই মূলত শুনানিতে ডাকা হবে।

কমিশন সূত্রে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, খসড়া তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে কমিশনের স্ক্যানারে রয়েছেন আরও প্রায় দেড় কোটি ভোটার। ধাপে ধাপে তাঁদের প্রত্যেককেই শুনানির মাধ্যমে নিজেদের নথিপত্র পেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে।

একযোগে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া এবং নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে,পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে সম্পন্ন করা হবে।
কোনো বৈধ ভোটারের নাম যাতে ভুলবশত বাদ না যায়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।যদি কোনো যোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকে, তবে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। এখন দেখার, ২৬ তারিখের শুনানিতে কতজন ভোটার তাঁদের নথিপত্র দিয়ে নিজেদের নাম তালিকায় টিকিয়ে রাখতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *