ভোটের উচ্ছ্বাসে ডেঙ্গুর ছায়া, দুর্গাপুরে ডেঙ্গুর বলি এক
নিজস্ব প্রতিনিধি,দুর্গাপুর: ভোটের রঙে রঙিন শহর। মাইক, মিছিল, দেওয়াল লিখনে সরগরম চারদিক। তার মাঝেই আচমকা ধাক্কা—ডেঙ্গুতে মৃত্যু এক ব্যক্তির। আর তাতেই উৎসবের আবহে দুশ্চিন্তার ছায়া ঘনাচ্ছে শিল্পনগরীতে।
দুর্গাপুর নগর নিগমের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেকেন্ডারি রোডের বাসিন্দা মনোজ দাস (৪৬) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। পেশায় পানাগড়ের একটি ওষুধের দোকানের কর্মী মনোজবাবু গত কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় ১৩ মার্চ তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন লড়াইয়ের পর ১৫ মার্চ মৃত্যু হয় তাঁর। পরে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গুতেই আক্রান্ত ছিলেন তিনি।
খবর ছড়াতেই চাঞ্চল্য এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে নিগমের স্বাস্থ্যদল পৌঁছে যায় সেকেন্ডারি রোডে। বাড়ি এবং আশপাশের নর্দমা ও জমে থাকা জলে কীটনাশক স্প্রে করা হয়। মশার প্রজনন রুখতে একাধিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিন ঘটনাস্থলে যান নিগমের প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখার্জী। শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি। প্রাথমিকভাবে তাঁর অনুমান, বাইরে কোথাও থেকে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন মনোজবাবু।
তবে প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। ভোটের প্রচারে যখন ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল, তখন শহরের জনস্বাস্থ্য নিয়ে কতটা সতর্ক প্রশাসন? চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের এই সময়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে। ফলে এখনই সতর্ক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
নাগরিকদের উদ্দেশে তাঁদের বার্তা স্পষ্ট—জমে থাকা জল সরান, মশারি ব্যবহার করুন, জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভোটের আবহে উৎসব থাকুক, কিন্তু সতর্কতার খামতি যেন না থাকে—এই বার্তাই দিচ্ছে দুর্গাপুরের এই ঘটনা।
