‘মমতা বনাম জনতা’: দুর্গাপুর পূর্বে জনসংযোগের ময়দানে বিজেপি-র ‘ভূমিপুত্র’ চন্দ্রশেখর
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দামান বেজে গিয়েছে। শিল্পনগরের অলিগলিতে এখন শুধুই ভোটের অঙ্ক। এরই মধ্যে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন জনসংযোগের ময়দানে। বৃহস্পতিবার সকালে গোপালপুরের উত্তরপাড়ায় এলাকাবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে দেখা গেল তাঁকে। তবে এ দিনের প্রচার থেকে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর লড়াইকে রাজনৈতিক সংঘাতের চেয়েও বড় এক সামাজিক লড়াই হিসেবেই চিহ্নিত করলেন চন্দ্রশেখর।
এ দিন প্রচারের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রশেখর দাবি করেন, এবারের নির্বাচন কেবল দু’টি দলের ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়। তাঁর কথায়, “এই বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে লড়াই নয়, বরং এটি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধারণ মানুষের লড়াই।” প্রার্থীর দাবি, এলাকায় ঘুরতে গিয়ে তিনি মানুষের মধ্যে যে ‘সিরিয়াসনেস’ দেখছেন, তাতে স্পষ্ট যে সাধারণ ভোটাররাই এবার পরিবর্তনের কাণ্ডারি হতে চান।
এলাকার বেহাল দশা নিয়ে সরব হতে দেখা গিয়েছে বিজেপি প্রার্থীকে। রাস্তার খানাখন্দ আর জলনিকাশি ব্যবস্থার দৈন্যদশা দেখিয়ে তিনি বলেন, “আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, এখানকার রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই। গত পাঁচ বছরে যিনি ক্ষমতায় ছিলেন, তিনি কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ করেননি।” ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চন্দ্রশেখর বলেন, “তিনি শ্রদ্ধার পাত্র, সিনিয়র। কিন্তু দীর্ঘ সময় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরেও কেন গ্রামের রাস্তাঘাট, ড্রেন বা পানীয় জলের সঠিক ব্যবস্থা হয়নি, মানুষ তার জবাব চাইছেন।”
নিজেকে এলাকার ‘মাটির ছেলে’ এবং ‘ভূমিপুত্র’ হিসেবে তুলে ধরে ভোটারদের আবেগে শান দিতে চেয়েছেন চন্দ্রশেখর। নাম না করে প্রতিপক্ষকে বিঁধে তাঁর প্রতিশ্রুতি, “জয়ের পর আমার অফিস এলাকাতেই থাকবে। সপ্তাহে পাঁচ দিন এলাকায় থাকব আর দু’দিন কলকাতায়। ঠিক আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর উল্টো।” তাঁর এই ‘ঘরের ছেলে’ ভাবমূর্তি গোপালপুরের উত্তরপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ কৌতুহল ও আগ্রহ তৈরি করেছে।শিল্পাঞ্চলের এই মেগা-ফাইট শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
