লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি: স্বস্তিতে রাজ্যের মহিলা, রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ভাতা বাড়ানোর ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার মুখে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ২০২৬ সালের ভোটের আগে এই ঘোষণাকে শাসকদলের বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ শ্রেণির মহিলারা এখন থেকে মাসে ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা করে পাবেন। এতদিনের তুলনায় ভাতা বাড়ায় উপভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারে মহিলাদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছালে তা সংসার চালানো থেকে শুরু করে সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে খরচে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে নারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাড়ে।
বাজেট ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শাসকদলের কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। দুর্গাপুরে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়। জেলা মহিলা তৃণমূল সভাপতি অসীমা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ঢাক বাজিয়ে মিছিল এগোয়। হাতে লক্ষ্মীর ভাঁড় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্লোগান তোলেন কর্মীরা। পরে সবুজ আবীর খেলায় অংশ নেন তাঁরা।
অসীমা চক্রবর্তী বলেন, ভাতা বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের মহিলারা খুশি। এই মিছিল সেই আবেগেরই প্রকাশ। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে মহিলাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং এই সিদ্ধান্তও তারই অংশ।
অন্যদিকে বিরোধীরা এই ঘোষণাকে ভোটের আগে রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলে কটাক্ষ করেছে। তবে শাসকদলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা এই প্রকল্পের বাস্তব উপকারই মানুষ দেখেছেন, তাই ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও জনমুখী।
সব মিলিয়ে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ভাতা বৃদ্ধি রাজ্যের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আগামী নির্বাচনের আগে এই প্রকল্প কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
