লোকসভা ভোটের মুখে মোদীর মেগা মাস্টারস্ট্রোক: বাংলায় ১৮,৭০০ কোটির উন্নয়ন প্রকল্পের ডালি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের রণভম্মি যখন প্রস্তুত, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গ তথা পূর্ব ভারতের জন্য উন্নয়নের ‘তুরুপের তাস’ খেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার কলকাতার এক প্রশাসনিক সভা থেকে প্রায় ১৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর এই মেগা সফর এবং বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম প্রধান ফোকাস ছিল রেল পরিকাঠামো। মোদী বাংলার ছয়টি অমৃত ভারত স্টেশনের আধুনিকীকরণের শিলান্যাস করেন। এর পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে পুরুলিয়া-আনন্দ বিহারগামী একটি নতুন ট্রেনের উদ্বোধন করেন তিনি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সবুজ পতাকা নেড়ে এই ট্রেনের যাত্রার সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই সংযোগ স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ও অর্থনীতিতে বড় বদল আনবে।
সড়ক ও সেতুতে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার
যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন বীরভূমের যানজট সমস্যার সমাধানে তৈরি হবে নতুন বাইপাস। শিলাবতী ও কংসাবতী নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের ঘোষণা করা হয়েছে, যা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর মধ্যে সংযোগ আরও নিটোল করবে।প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “এই সেতু ও সড়কগুলো তৈরি হলে কেবল যাতায়াত সহজ হবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

কলকাতা থেকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, তাঁর সরকারের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা পূর্ব ভারতকে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি বা ‘ইঞ্জিন’ হিসেবে গড়ে তোলা। রেল, সড়ক ও বন্দর পরিকাঠামোয় এই ১৮,৭০০ কোটির বিনিয়োগ কেবল বর্তমান নয়, আগামী প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যেই করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

জাতীয় নির্বাচন কমিশন সম্ভবত আগামী সপ্তাহেই লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে। তার ঠিক কয়েক দিন আগে প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে এই বিপুল অংকের প্রকল্পের ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে যখন রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, তখন ‘বিকাশ’ বা উন্নয়নের বার্তা দিয়ে মোদী আদতে ভোটারদের কাছে নিজের সরকারের কর্মতৎপরতার প্রমাণ পেশ করলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *