শিল্পাঞ্চলে বাম-বিজেপি দ্বৈরথ শুরু, প্রার্থী ঘোষণায় পিছিয়ে থেকে চাপে শাসক দল তৃণমূল
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই শিল্পনগরী দুর্গাপুরের রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। দুই প্রধান বিরোধী পক্ষ বিজেপি ও বামফ্রন্ট তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেওয়াল লিখনে নেমে পড়লেও, দুর্গাপুরের দুটি আসনে এখনও ‘নিস্পৃহ’ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রার্থী ঘোষণায় এই বিলম্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা ও সমালোচনা।
বাম ও বিজেপির রণকৌশল:
দুর্গাপুরের দুই কেন্দ্রে এবার লড়াইয়ের ময়দানে চেনা মুখদেরই নামিয়েছে বিরোধী শিবির। দুর্গাপুর পূর্ব এই কেন্দ্রে বাম-গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সমর্থনে সিপিআই(এম) প্রার্থী করেছে পোড়খাওয়া শ্রমিক নেতা সীমান্ত চট্টোপাধ্যায়কে। উল্টোদিকে, বিজেপি এখানে বাজি ধরেছে চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। অন্যদিকে দুর্গাপুর পশ্চিম এই কেন্দ্রে বামেদের প্রার্থী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিচিত মুখ প্রভাস সাঁই। বিজেপি এখানে তাদের বিদায়ী বিধায়ক তথা অভিজ্ঞ নেতা লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুইয়ের ওপরই পুনরায় আস্থা রেখেছে।
তৃণমূলের অন্দরে কি ‘গোষ্ঠীকোন্দল’?
বাম এবং বিজেপি প্রার্থীরা যখন প্রচারে নেমে পড়েছেন, তখন শাসক শিবিরের এই নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপুরে তৃণমূলের একাধিক গোষ্ঠীর দাবিদার থাকায় প্রার্থী বাছাই নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা নেতৃত্ব। এক পক্ষের দাবি না মানলে অন্য পক্ষ ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়ে যেতে পারে— এই আশঙ্কাই কি তবে প্রার্থী তালিকায় দেরি করাচ্ছে?
সমালোচনায় বিরোধীরা:
বিজেপির কটাক্ষ, “তৃণমূল তো আগে নিজেদের লড়াই থামাক, তারপর মানুষের লড়াইয়ে নামবে। ওদের প্রার্থী খুঁজে পেতে কালঘাম ছুটছে।” অন্যদিকে, বাম পন্থীদের মতে, শাসক দল জানে ওদের পরাজয় নিশ্চিত। শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা আর তৃণমূলের কথায় ভুলবে না, তাই প্রার্থী হতেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন।”
শিল্পাঞ্চলের মানুষের নজর:
দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম— দুই আসনেই কলকারখানা ও শ্রমিক ভোটারদের বড় ভূমিকা থাকে। একদিকে সিপিআইএম যেখানে শ্রমিক নেতৃত্বকে সামনে এনেছে, অন্যদিকে বিজেপি তাদের হিন্দুত্ব ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রার্থী কে হন এবং তিনি এই দুই ‘হেভিওয়েট’ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কতটা লড়াই দিতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।শিল্পশহরের চায়ের দোকানে এখন একটাই প্রশ্ন— “বাকিরা তো নেমে পড়ল, তৃণমূলের ঘোড়া আসবে কবে?”
