নিজস্ব সংবাদদাতা, পাণ্ডবেশ্বর: এক মাসের কঠোর সংযম পালন শেষে খুশির ঈদ। আর এই উৎসবের আবহে রাজনীতির চেনা সমীকরণ সরিয়ে রেখে সম্প্রীতির অনন্য এক চিত্র ধরা পড়ল পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকায়। খুশির এই দিনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে সাতসকালেই পাঞ্জাবি পরে রাস্তায় নেমে পড়েন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। লক্ষ্য একটাই, উৎসবের আবহে বিভেদ নয় বরং ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
এদিন সকাল থেকেই বিধায়ককে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। তাঁর এই উপস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং ঘরোয়া। কোথাও তিনি প্রবীণদের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন আবার কোথাও সমবয়সীদের সঙ্গে কোলাকুলিতে মেতে ওঠেন। ছোটদের মাথায় হাত রেখে স্নেহাশিস দেওয়া থেকে শুরু করে যুবকদের সঙ্গে আড্ডায় মাতোয়ারা হওয়া— সব মিলিয়ে উৎসবের এক নতুন ছবি ফুটে ওঠে পাণ্ডবেশ্বরে। ঘরের চার দেওয়ালে বসে না থেকে মানুষের টানেই তিনি সারা দিন বিধানসভার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন।
পাণ্ডবেশ্বরের সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, আজকের এই বিশেষ দিনে রাজনীতির রং ফিকে হয়ে গিয়েছে। সেখানে মানুষ এবং মানবিকতাই বড় হয়ে উঠেছে। আট থেকে আশি, প্রতিটি মানুষের মুখেই ছিল তৃপ্তির হাসি। স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়ককে নিজেদের মধ্যে পেয়ে খুশি ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের মতে, উৎসবের দিনটিতে কোনো ভেদাভেদ না রেখে মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়াই প্রকৃত জনপ্রতিনিধির পরিচয়।
এই প্রসঙ্গে বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জানান যে ঈদ মানেই হলো আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের মিলন। পাণ্ডবেশ্বর চিরকালই সম্প্রীতির জায়গা হিসেবে পরিচিত। এখানকার মানুষ সারা বছর একসঙ্গেই পথ চলেন এবং আজকের এই বিশেষ দিনটি সেই সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি এই পবিত্র দিনে এলাকার প্রতিটি মানুষের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
পাণ্ডবেশ্বরের এই চিত্র আরও একবার প্রমাণ করল যে উৎসবের কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম হয় না, উৎসব সবার। রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান নিজের জায়গায় থাকলেও উৎসবের দিনে মানুষই যে শেষ কথা, সেই বার্তাই আজ প্রতিধ্বনিত হলো গোটা এলাকায়। দিনভর এই মেলামেশা এবং ভ্রাতৃত্বের আবহ পাণ্ডবেশ্বরের মাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শিকড়কে আরও গভীরে নিয়ে গেল।