স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে উত্তাল কলকাতা: পুলিশের বাধা ও আশাকর্মীদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ধর্মতলা থেকে সল্টলেক

সঙ্কেত ডেস্ক: ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির দাবিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতরের সদর দফতর ‘স্বাস্থ্য ভবন’ অভিযানকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল কলকাতা। শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশন থেকে শুরু করে ধর্মতলা ও সল্টলেক— দিনভর পুলিশের সঙ্গে আশাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধস্তাধস্তি এবং ধরপাকড়ে স্তব্ধ হয়ে পড়ে শহরের জনজীবন।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আশাকর্মীদের বুধবার ভোর থেকেই শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে আটকে দেয় পুলিশ। মিছিল আটকাতে স্টেশন চত্বরেই বসানো হয় লোহার ব্যারিকেড। পশ্চিম মেদিনীপুর ও উত্তর দিনাজপুরের আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তাঁদের স্টেশন থেকে বেরোতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অনেককে ‘হাউস অ্যারেস্ট’ করে রাখা হয়েছে। প্রতিবাদে বহু আশাকর্মী প্ল্যাটফর্মেই বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
শিয়ালদহ ও হাওড়ায় বাধা পেয়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীরা বিকল্প পথে ধর্মতলায় জমায়েত হতে শুরু করেন। ডোরিনা ক্রসিং ও এস এন ব্যানার্জী রোডে হাজার হাজার আশাকর্মী রাজপথ দখল করলে সম্পূর্ণ থমকে যায় যান চলাচল। পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “দাবি পূরণ ও আটক কর্মীদের মুক্তি না মেলা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়া হবে না।”

রাজ্যে প্রায় ৮০ হাজার আশাকর্মী গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন। তাঁদের প্রধান ৮ দফা দাবি হলো, ন্যূনতম মাসিক ভাতা ১৫,০০০ টাকা করা (বর্তমানে ৫,২৫০ টাকা)।পারফরম্যান্সভিত্তিক ভাতার বদলে নির্দিষ্ট মাসিক বেতন চালু।মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান। কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভার।
আন্দোলন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “আশাকর্মীদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তাঁদের মিছিল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।” পাল্টা জবাবে পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইসমতারা খাতুন জানান, ৩৮ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও সরকার কর্ণপাত করছে না। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।এদিকে, এই ঘটনায় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পুলিশি পদক্ষেপকে “বর্বরতা” আখ্যা দিয়ে বলেন, “বাংলার মানুষ দেখছেন কীভাবে মহিলা কর্মীদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে।”

সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবন চত্বর মঙ্গলবার রাত থেকেই লোহার জাল, গার্ড্রেল ও বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও পুলিশি বাধার কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সল্টলেক ও কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু আন্দোলনকারীকে আটক করে প্রিভেন্টিভ কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *