১ এপ্রিল শুরু ২০২৭-এর আদমশুমারি: ৩৩টি প্রশ্নে নাগরিকত্ব নয়, উন্নয়নই লক্ষ্য
বিশেষ প্রতিনিধি,নয়াদিল্লি: ২০২৭ সালের আদমশুমারি ঘিরে দেশজুড়ে প্রস্তুতি শুরু হতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আদমশুমারিতে অন্তর্ভুক্ত ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর না দিলে নাগরিকত্বে কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আদমশুমারির সঙ্গে নাগরিকত্বের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই।
কেন্দ্রীয় সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলেছে ‘আদমশুমারি ২০২৭’-এর প্রথম ধাপ। এই পর্যায়ে আদমশুমারি কর্মীরা বাড়ির সংখ্যা, আবাসনের ধরন এবং সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করবেন।ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দফতরের মতে, এই পর্যায়ের উদ্দেশ্য হল দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা।এবারের আদমশুমারিতে শুধুমাত্র জনসংখ্যা গণনাই নয়, মানুষের জীবনযাত্রার মান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তালিকাভুক্ত ৩৩টি প্রশ্নের মাধ্যমে জানা হবে বাড়িটি পাকা না কাঁচা, মেঝে, দেওয়াল ও ছাদের নির্মাণসামগ্রী কী, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা, পরিবারের প্রধান পুরুষ না মহিলা এবং তিনি কোন সামাজিক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।সরকারের লক্ষ্য, মানুষের জীবনযাত্রার অবস্থা ও সুযোগ-সুবিধার স্তর মূল্যায়ন করা।
আদমশুমারিতে পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস, ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের সুবিধা রয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও প্রশ্ন থাকবে। পাশাপাশি পরিবারের কাছে সাইকেল, মোটরবাইক, গাড়ি বা অন্য কোনও যানবাহন রয়েছে কি না এবং খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।প্রশাসনের দাবি, এই সমস্ত তথ্য ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
আইন অনুযায়ী আদমশুমারি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার জানালে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে প্রশাসনের মতে, এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায়। কোনও এলাকার সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলে রেশন, স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বরাদ্দ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পাশাপাশি আদমশুমারি ঘিরে নাগরিকত্ব নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য, আদমশুমারির প্রশ্নের উত্তর না দিলে কেউ ভারতীয় নাগরিকত্ব হারাবেন না। নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য পৃথক আইন ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।প্রশাসনের মতে, আদমশুমারির উদ্দেশ্য কারও পরিচয় বা অধিকার কেড়ে নেওয়া নয়, বরং দেশের মানুষের কী ধরনের পরিষেবা ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা।সরকার আরও জানিয়েছে, আদমশুমারিতে সঠিক তথ্য প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই প্রতিটি এলাকায় স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট এবং অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়। ফলে প্রতিটি নাগরিকের সহযোগিতাই সার্বিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছে প্রশাসন।
