২০২৫: ভারতের বিকাশের এক নির্ণায়ক বছর ভারতের ‘গোল্ডিলকস মুহূর্ত’

সঙ্কেত ডেস্ক:: ২০২৫ সাল ভারতের অর্থনৈতিক যাত্রায় এক নির্ণায়ক বছর হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। উচ্চ বৃদ্ধির হার, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের উন্নতির সমন্বয়ে ভারত বর্তমানে এক অনুকূল বা তথাকথিত ‘গোল্ডিলকস মুহূর্ত’-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৮.২ শতাংশ। এটি প্রথম ত্রৈমাসিকের ৭.৮ শতাংশ এবং ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের ৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধির হারকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বেকারত্বের হার কমে ৪.৭ শতাংশে নেমেছে, যা অক্টোবরের ৫.২ শতাংশের তুলনায় কম এবং এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।

মুদ্রাস্ফীতির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য স্বস্তি মিলেছে। ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুদ্রাস্ফীতি যেখানে ছিল ৪.২৬ শতাংশ, নভেম্বর মাসে তা নেমে এসেছে মাত্র ০.৭১ শতাংশে। খাদ্যদ্রব্যের দামের স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর মুদ্রানীতির ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

বাণিজ্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের পণ্য রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৩৬.৪৩ বিলিয়ন ডলার। বৈদ্যুতিন সামগ্রী, ওষুধ এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানিতে ভারতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অর্থনৈতিক সাফল্যের আরেকটি বড় দিক হলো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান। ২০২৫ সালে প্রায় ৪.১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের জিডিপি নিয়ে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। অনুকূল আর্থিক পরিস্থিতি ও পরিকাঠামোগত সংস্কারের জোরে অদূর ভবিষ্যতে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে দেশটি এগিয়ে চলেছে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক উন্নতির ছবি ধরা পড়েছে। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বেড়েছে, কর্মরত জনসংখ্যার অনুপাতও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ শ্রমবাজারে অগ্রগতি বৃদ্ধি, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পরিষেবা রপ্তানি, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রাভাণ্ডারের জোরে ভারতের বহির্বাণিজ্য ক্ষেত্রেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি পাওয়াকে ভারতীয় অর্থনীতির ওপর আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, কম বেকারত্ব, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি এবং স্থিতিশীল বহির্বাণিজ্যের ফলে ভারত ২০৪৭ সালের ‘উন্নত ভারত’ লক্ষ্য অর্জনের পথে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে—এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *