২০২৬-এর ভোটের আগে কড়া দাওয়াই ১১ জেলার জেলাশাসক ও ৫ রেঞ্জের ডিআইজি অপসারিত

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোট প্রক্রিয়াকে ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ’ রাখার লক্ষ্যে বুধবার এক ধাক্কায় রাজ্যের ১১টি জেলার জেলাশাসক (ডিএম) তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হল। একই সঙ্গে দুই নির্বাচনী আধিকারিক বদল করা হয়েছে খাস কলকাতায়। প্রশাসনিক এই বড়সড় রদবদলের ঢেউ আছড়ে পড়েছে পুলিশ মহলেও; অপসারিত হয়েছেন পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জের ডিআইজি-ও।
রদবদলের মানচিত্র
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই রদবদলের ছোঁয়া। কোচবিহারের নতুন জেলাশাসক হয়েছেন জিতেন যাদব। জলপাইগুড়ি ও উত্তর দিনাজপুরের দায়িত্ব পেলেন যথাক্রমে সন্দীপ ঘোষ ও বিবেক কুমার। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের ব্যাটন এখন রাজনবীর সিংহ কপূর ও আর অর্জুনের হাতে। দক্ষিণবঙ্গে নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলোতেও আনা হয়েছে নতুন মুখ। উত্তর কলকাতার নতুন নির্বাচনী আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডে এবং দক্ষিণ কলকাতার দায়িত্ব সামলাবেন রণধীর কুমার।
পুলিশি রদবদল
ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আঁটসাঁট করতে পাঁচ আইপিএস অফিসারকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি পদে আসছেন রাঠোর অমিতকুমার ভারত। অজিত সিং যাদবকে মুর্শিদাবাদ, শ্রীহরি পান্ডেকে বর্ধমান, কঙ্কর প্রসাদ বারুইকে প্রেসিডেন্সি এবং অঞ্জলি সিংকে জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে।
কড়া বার্তা
কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অপসারিত আধিকারিকরা ভোট সংক্রান্ত কোনও কাজের ত্রিসীমানায় থাকতে পারবেন না। নবনিযুক্ত আধিকারিকদের আগামীকাল বিকেলের মধ্যে কাজে যোগ দিয়ে রিপোর্ট পাঠানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই এই ব্যাপক রদবদল প্রশাসনের অন্দরে এক প্রকার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’। শাসক-বিরোধী তরজার মাঝে নির্বাচন কমিশন বুঝিয়ে দিল, ২০২৬-এর মহারণে স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *