ট্যাপ খুললেই হাহাকার! দুর্গাপুরে ২০ দিন ধরে চরম জলসংকট, পাইপলাইন বিপর্যয়ে নাজেহাল বাসিন্দারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বসন্তের শুরুতেই পানীয় জলের জন্য হাহাকার দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে। গত প্রায় ২০ দিন ধরে তীব্র জলসংকটে ভুগছেন শহরের একাংশের বাসিন্দারা। বিশেষ করে ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পরিস্থিতি সবথেকে ভয়াবহ। পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার জেরে দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে অনিয়মিত জল সরবরাহে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জানা গিয়েছে, এলাকায় রেলওয়ে এক্সটেনশনের কাজ চলাকালীন দুর্গাপুর প্রোজেক্ট লিমিটেড (DPL)-এর একটি প্রধান পানীয় জলের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাইপটি ফেটে যাওয়ায় জল সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ২০ দিন পার হয়ে গেলেও মেরামতির কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার ট্যাপ খুললেও জলের দেখা নেই। রান্না থেকে শুরু করে স্নান বা শৌচাগারের কাজ—সবকিছুর জন্যই এখন চড়া দামে জল কিনতে হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির দৈনন্দিন বাজেটে এর ফলে টান পড়ছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “কুড়ি দিন ধরে আমাদের কোনো হুঁশ নেই। কতদিন এভাবে জল কিনে সংসার চালানো সম্ভব?”
পুরসভার জল না থাকায় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পাউচ বা জারের জলের চাহিদা। তবে চাহিদা এতই বেশি যে জল বিক্রেতারাও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। এক জল বিক্রেতা জানান, “শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জলের অর্ডার আসছে। কিন্তু সাপ্লাই সীমিত হওয়ায় আমরা সবাইকে জল পৌঁছে দিতে পারছি না। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে।”
প্রশাসনের আশ্বাস
যদিও মেরামতির কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে, তবে কবে নাগাদ জল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। তীব্র গরমে এই জলসংকট দুর্গাপুরের বাসিন্দাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে। অবিলম্বে বিকল্প উপায়ে বা ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত জল সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *