কয়লা চুরিতে বাধা: জামুড়িয়ায় তৃণমূল কার্যালয়ে দুষ্কৃতী তাণ্ডব, আক্রান্ত অঞ্চল সম্পাদকসহ ৭

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কয়লা চুরি করতে দিতে হবে ,এই দাবিতে খনি এলাকায় নজিরবিহীন তাণ্ডব চালাল একদল দুষ্কৃতী। বৃহস্পতিবার সকালে পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত চুরুলিয়া হাটতলা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল কার্যালয়ে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। দুষ্কৃতীদের মারে শাসকদলের এক হেভিওয়েট নেতাসহ অন্তত ৭ জন জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কমব্যাট ফোর্স ও আরএএফ (REF) মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চুরুলিয়ার একটি বেসরকারি খোলামুখ খনি থেকে এলাকারই কিছু অসাধু ব্যক্তি নিয়মিত কয়লা চুরি করত। বুধবার পুলিশ ও প্রশাসনের সক্রিয়তায় ওই বেআইনি কারবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, এর প্রতিবাদেই বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় ফকির পাড়ার একদল বাসিন্দা হাটতলায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের দাবি ছিল, তৃণমূল নেতৃত্বকে পুনরায় কয়লা চুরির ‘ব্যবস্থা’ করে দিতে হবে।

দাবি পূরণ না হওয়ায় উত্তেজিত জনতা চুরুলিয়া অঞ্চল তৃণমূল কার্যালয়ে চড়াও হয়। কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে যথেচ্ছ ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি দলের পতাকা ছিঁড়ে ফেলা হয়। সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন খনির সাইড ইনচার্জ বিকাশ দত্ত। দুষ্কৃতীরা তাঁকে আটকে বেধড়ক মারধর করে এবং তাঁর চারচাকা গাড়িটি ভেঙে চুরমার করে দেয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন তৃণমূলের চুরুলিয়া অঞ্চল সাধারণ সম্পাদক শেখ আসরফ। হামলায় ৫টি মোটরবাইকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। চুরুলিয়া অঞ্চল সভাপতি ব্রজনারায়ণ রায়ের অভিযোগ, “এই হামলার পেছনে বিজেপি ও সিপিএমের প্রচ্ছন্ন ইন্ধন রয়েছে। ওরা এলাকা অশান্ত করতে চাইছে।”পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। বিজেপি নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, “নিজেদের পোষা দুধেল গাইদের হাতেই আক্রান্ত হয়েছে তৃণমূল। এই ঘটনা থেকেই প্রমাণিত যে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকেই এতদিন কয়লা চুরি নিয়ন্ত্রণ হতো। এখন ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে গণ্ডগোল হওয়ায় এই পরিস্থিতি।
ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে চুরুলিয়া ফাঁড়ির পুলিশ পৌঁছালেও পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। পরে জামুড়িয়া থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স এলাকায় নামে। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত থাকলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে কয়লা পাচার মামলায় যখন কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি (ED) সক্রিয়, সেই আবহে চুরুলিয়ার এই হিংসাত্মক ঘটনা পুলিশ প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *