নজিরবিহীন রদবদল: কমিশনের নির্দেশে সরলেন ইন্দিরা, ভোটের মুখে বদল ১২ জেলার পুলিশ সুপার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। একদিকে যেমন কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) পদ থেকে অপসারিত হলেন বিতর্কিত আইপিএস অফিসার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যের ১২টি জেলার পুলিশ সুপারকেও একযোগে বদলে দিল কমিশন। আরজি কর-কাণ্ডে যাঁর ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন খোদ নির্যাতিতার পরিবার, সেই ইন্দিরাকে সরিয়ে কলকাতার সেন্ট্রাল ডিভিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইয়েলওয়াড় শ্রীকান্ত জগন্নাথরাওকে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে বীরভূম থেকে কোচবিহার— রাজ্যের একঝাঁক জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ করেছে কমিশন।এক নজরে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা, বীরভূম জেলার আইনশৃঙ্খলা সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১১ ব্যাচের আইপিএস সূর্যপ্রতাপ যাদবকে। ডায়মন্ড হারবার রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পুলিশ জেলার সুপার হয়েছেন ঈশানী পাল। কোচবিহার উত্তরবঙ্গের এই জেলায় এসপি হয়ে আসছেন ২০১৬ ব্যাচের আইপিএস জসপ্রীত সিংহ। বারাসতের নতুন পুলিশ সুপার হলেন ২০১২ ব্যাচের আইপিএস পুষ্পা।
মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন ২০১৩ ব্যাচের সচিন। অন্যদিকে জঙ্গিপুরের এসপি করা হয়েছে ২০১৬ ব্যাচের সুরিন্দর সিংহকে।
সীমান্তবর্তী এলাকা এবং স্পর্শকাতর জেলাগুলিতেও অভিজ্ঞ অফিসারদের ওপর ভরসা রেখেছে কমিশন। বসিরহাটের নতুন এসপি হয়েছেন ২০১৭ ব্যাচের আইপিএস লকানন্দা ভোয়াল।
পূর্ব মেদিনীপুরের দায়িত্ব পেয়েছেন অংশুমান সাহা (২০১২ ব্যাচ) এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের সুপার হলেন পাপিয়া সুলতানা (২০১৫ ব্যাচ)। আমের জেলা মালদহের পুলিশ সুপার করা হয়েছে অনুপম সিংহকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরপরই পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষস্তরে এই রদবদল কার্যত শাসক দলের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল। বিশেষত আরজি কর-কাণ্ডে বিদ্ধ এক পুলিশ আধিকারিককে সরানো এবং স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে নতুন মুখ আনা কমিশনের নিরপেক্ষ অবস্থানেরই ইঙ্গিত।
