ভবানীপুরে মেগা দ্বৈরথ: ঘরের মাঠে মমতাকে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর, নন্দীগ্রামের পর এবার নজরে দক্ষিণ কলকাতা

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: শেষ পর্যন্ত যাবতীয় জল্পনার অবসান। হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামের পর এবার বাংলার রাজনীতির ভরকেন্দ্র ভবানীপুর প্রত্যক্ষ করতে চলেছে এক অভূতপূর্ব সম্মুখসমর। তৃণমূলের তরফে প্রার্থী হচ্ছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর বিরুদ্ধেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ময়দানে নামাল বিজেপি। অর্থাৎ, নন্দীগ্রামের পর ফের একবার সম্মুখসমরে ‘দিদি’ বনাম ‘দাদা’।
রাজনীতির এপিসেন্টারে ‘ডাবল ফাইট’
ভবানীপুর বরাবরই বাংলার রাজনীতির ‘এপিসেন্টার’। কিন্তু এবারের লড়াই শুধু পাটিগণিতের নয়, এ এক চরম ব্যক্তিগত এবং আদর্শগত সংঘাত। এককালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী তথা তৃণমূলের হেভিওয়েট সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী এখন বিজেপির প্রধান মুখ। নন্দীগ্রামের স্মৃতি উসকে দিয়ে শুভেন্দু এবার হানা দিতে চাইছেন খোদ দলনেত্রীর খাসতালুকে।
লড়াইয়ের রণকৌশল: উন্নয়ন বনাম আক্রমণ
দুই যুযুধান শিবিরের প্রচারের অভিমুখ সম্পূর্ণ আলাদা:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: নিজের রাজনৈতিক চারণভূমিতে ‘ঘরের মেয়ে’ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করছেন তৃণমূল নেত্রী। পাড়ায় পাড়ায় সংযোগ এবং উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে আবেগকে স্পর্শ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। পুরোনো কলকাতার বাসিন্দা এবং সংখ্যালঘু ভোটের জমাট সংহতিই তাঁর অপরাজেয় দুর্গের চাবিকাঠি।
শুভেন্দু অধিকারী: অন্যদিকে, শুভেন্দুর হাতিয়ার আক্রমণাত্মক মেজাজ। নন্দীগ্রামে ‘জায়ান্ট কিলার’ হওয়ার পর তাঁর লক্ষ্য এখন ভবানীপুরে পদ্ম ফোটানো। তাঁর আক্রমণের মূল সুর— ‘ভবানীপুর কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়’। অবাঙালি ও হিন্দু ভোটারদের মেরুকরণের কৌশলে তিনি তৃণমূল নেত্রীকে ঘরের মাঠে চাপে ফেলার ছক কষছেন।
নজরে যখন ভোটার অঙ্ক
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জনবিন্যাস অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক দুই পক্ষের প্রধান লক্ষ্য| তৃণমূলের(মমতা) হাতিয়ার| বাঙালি সমাজ, সংখ্যালঘু ও পুরোনো বাসিন্দা , উন্নয়ন ও ঘরের মেয়ে ।

অন্যদিকে বিজেপি (শুভেন্দু) র হাতিয়ার হিন্দিভাষী, অবাঙালি ও হিন্দু ভোটার ,তোষণ বিরোধী ও পরিবর্তন।
কেবল আসন নয়, লড়াই অস্তিত্বের
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াই কেবল একটি বিধানসভা আসনের জয়-পরাজয় নয়। এটি আদতে বাংলার আগামী দিনের রাজনীতির দিকনির্ণায়ক। শুভেন্দুর কাছে এটি তাঁর ‘জায়ান্ট কিলার’ ইমেজ ধরে রাখার পরীক্ষা। আর মমতার কাছে এটি নিজের অস্তিত্ব এবং অপরাজেয় দুর্গ রক্ষার এক মরণপণ চ্যালেঞ্জ।
ভবানীপুরের অলিগলিতে এখন একটাই প্রশ্ন— নন্দীগ্রামের বদলা কি ঘরের মাঠে নিতে পারবেন মমতা? নাকি মমতার গড়েও পদ্ম ফুটিয়ে ফের চমক দেবেন শুভেন্দু? উত্তর দেবে ইভিএম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *