শিল্পাঞ্চলে অকাল বসন্ত: প্রার্থী ঘোষণা হতেই দুর্গাপুরে আবির খেলা, ‘প্রদীপ’ সমীপে “কবি”

নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই খুশির জোয়ার শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে। দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম— দুই কেন্দ্রেই ঘাসফুল শিবিরের মনোনীত প্রার্থীদের নাম সামনে আসতেই রাস্তায় নামলেন কর্মী-সমর্থকরা। কোথাও চলল মিষ্টি মুখ, কোথাও আবার অকাল হোলির মেজাজে একে অপরকে রাঙিয়ে দিলেন আবিরে। আসন্ন নির্বাচনের মহারণে ঘর গোছাতে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে নারাজ তৃণমূলের দুই যোদ্ধা— প্রদীপ মজুমদার ও কবি দত্ত।

অভিজ্ঞতার পাশে তারুণ্য: রণকৌশলে শান
তৃণমূলের অন্দরে এখন চাঙ্গা ভাব। দুর্গাপুর পূর্ব থেকে ফের একবার দলের বাজি অভিজ্ঞ রাজনীতিক তথা রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। অন্যদিকে, দুর্গাপুর পশ্চিমের দুর্গ সামলাতে দল ভরসা রেখেছে কবি দত্তের ওপর। রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন মুখকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলের জমি শক্ত করতে চাইছে কালীঘাট।
মঙ্গলবাসরীয় শুভসূচনা: ‘গুরু’র আশীর্বাদে ‘শিষ্য’
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই সাজ সাজ রব। তবে নজর কেড়েছে দুই প্রার্থীর পারস্পরিক সৌজন্যবোধ, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ দুর্গাপুর পশ্চিমের প্রার্থী কবি দত্ত তাঁর প্রচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা করছেন। তবে নিজের পালে হাওয়া টানার আগে তিনি দেখা করছেন প্রদীপ মজুমদারের সঙ্গে। অভিজ্ঞ এই নেতার পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়েই ভোটের ময়দানে পা রাখছেন কবি।এদিন দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে তৃণমূল কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রদীপ মজুমদার ও কবি দত্তকে ঘিরে কুশল বিনিময় আর শুভেচ্ছার বন্যায় ভেসেছেন অনুগামীরা।
শিল্পাঞ্চলের সমীকরণ: নজরে যখন সংগঠন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী ঘোষণার পরপরই এই স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত আদতে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে অক্সিজেনের কাজ করছে। দুর্গাপুর পূর্ব আসনে প্রদীপ মজুমদার যেমন উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতায় পুষ্ট
তেমনি দুর্গাপুর পশ্চিম এর তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত নতুন নেতৃত্ব ও সরাসরি জনসংযোগ দক্ষ।
লক্ষ্য এখন নবান্ন
দুর্গাপুরের এই দুই আসনের লড়াই এবার শাসক দলের কাছে অত্যন্ত সম্মানের। প্রদীপ মজুমদারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আর কবি দত্তের লড়াকু মেজাজকে পাথেয় করে বিজেপি-কে রুখতে মরিয়া তৃণমূল। কর্মীদের এই উৎসাহ ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই দুর্গাপুরের অলিগলি জানান দিচ্ছে— লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *