তদন্তে বাধা না কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? আইপ্যাক-মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জোর টক্কর

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: একদিকে যখন কলকাতার রাজপথে আইপ্যাক-কাণ্ডে ইডির ‘অতিসক্রিয়তা’র বিরুদ্ধে মিছিলে পা মেলালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই দেশের শীর্ষ আদালতে শুরু হল এই মামলার হাইভোল্টেজ শুনানি। একদিকে রাজপথের আন্দোলন, অন্যদিকে আইনি লড়াই— বুধবার আইপ্যাক-বিতর্ককে কেন্দ্র করে নবান্ন বনাম দিল্লির সংঘাত এক নতুন মাত্রা পেল।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে মামলাটি উঠলে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর পক্ষ থেকে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা সওয়াল শুরু করতেই রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন জানান। তাঁদের দাবি, ইডির জবাবি হলফনামায় মূল বিষয়ের বাইরে অনেক নতুন তথ্য ঢোকানো হয়েছে, যা খতিয়ে দেখতে সময় প্রয়োজন। তবে তুষার মেহতা এই বিলম্বের তীব্র বিরোধিতা করেন।
আদালতে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী শ্যাম দিবান এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন তোলেন। তাঁর যুক্তি, আইপ্যাক দফতরে তল্লাশি ঘিরে যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার মীমাংসার জন্য মামলাটি একটি বৃহত্তর ‘সংবিধান বেঞ্চ’-এ পাঠানো প্রয়োজন। রাজ্যের দাবি, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ইডির এই আবেদন আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
কোনও সরকারি দফতর যদি স্বতন্ত্র আইনি সত্তা না হয়, তবে তারা সরাসরি রাজ্যের বিরুদ্ধে এভাবে মামলা করতে পারে কি না, তা নিয়ে সাংবিধানিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।কেন্দ্রীয় এজেন্সি কি আসলে কেন্দ্রের হয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার লড়াই লড়ছে? এই মৌলিক প্রশ্নটিই তুলে ধরেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় আগামী দিনে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে তদন্তকারী সংস্থাগুলির এক্তিয়ার এবং রাজ্যের প্রশাসনিক স্বাধিকারের মধ্যেকার সূক্ষ্ম সীমারেখা এই মামলার মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *