কমিশনের ‘সারপ্রাইজ সার্জারি’, রাজ্যে অঘোষিত জরুরি অবস্থা! গর্জে উঠলেন মমতা

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোট ঘোষণার ঢের আগেই বাংলাজুড়ে বদলির ‘মহা-মিছিল’। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের ডিজি— বাদ গেলেন না কেউই। স্রেফ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নজিরবিহীনভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৫০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ আধিকারিককে। আর নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে ঘিরেই এবার রণংদেহি মেজাজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, রাজ্যে আসলে চলছে এক ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’।
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রধান অভিযোগ, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই যেভাবে প্রশাসনের শীর্ষস্তরের বিন্যাস বদলে দেওয়া হয়েছে, তা আদতে ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ ছাড়া আর কিছুই নয়। নবান্নের অলিন্দে এখন একটাই প্রশ্ন— এভাবে কি আক্ষরিক অর্থেই পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে?
মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টের ছত্রে ছত্রে ঝরে পড়েছে শ্লেষ। তিনি লিখেছেন, যে আধিকারিকদের এ রাজ্যে ‘নির্বাচনী কাজের অযোগ্য’ তকমা দিয়ে পদ থেকে সরানো হয়েছে, তাঁদেরই আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হল! কমিশনের এই দ্বিচারিতাকেই কাঠগড়ায় তুলে মমতা প্রশ্ন তুলেছেন, “এই বৈপরীত্য কি কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখে?”
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ বিধাননগর ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারদের তড়িঘড়ি সরিয়ে দেওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ দুই শহর আপাতত কার্যত নিরাপত্তাহীন।আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার অফিসারদের সরিয়ে দেওয়ায় অপরাধ দমনের চাকা থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।মমতার দাবি, বিজেপি আসলে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করে বাংলাকে ‘কব্জা’ করতে চাইছে। রণংদেহি মেজাজে তৃণমূল সুপ্রিমোর স্পষ্ট দাবি “এটি সুশাসন নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছড়ানো চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা।”
প্রশাসনিক রদবদলের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ফের উসকে দিয়েছেন নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকার বিতর্ক। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি, বিতর্কিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নাগরিকত্ব প্রমাণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশও মনে করছে, স্বাধীনতার সাত দশক পরেও মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্বের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা আদতে এক ধরনের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’।
রাজ্যের এই উত্তাল পরিস্থিতিতে তৃণমূল শিবিরের স্পষ্ট দাবি, প্রশাসনকে চাপে ফেলে বাংলার মানুষকে ভয় দেখানো যাবে না। প্রশাসনিক এই ‘সারপ্রাইজ সার্জারি’র পাল্টা হিসেবে তৃণমূল যে জনতাকে সাথে নিয়ে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, মমতার এই পোস্ট তারই আগাম সঙ্কেত বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ।এখন দেখার, রাজ্যের এই নালিশের পাল্টা কমিশন বা বিরোধী শিবির কী অবস্থান নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *