অপারেশনের নামে ‘প্যাকেজ’ ভাঁওতা! মিশন হাসপাতালকে জরিমানা স্বাস্থ্য কমিশনের

নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর: রোগীর থেকে প্যাকেজ মূল্যের অতিরিক্ত টাকা নেওয়া এবং অহেতুক দেরি করে বিল বাড়ানোর অভিযোগে দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতাল ‘মিশন’ (Mission Hospital)-কে কড়া দণ্ড দিল রাজ্য স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ কমিশন। শুধু বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়াই নয়, হাসপাতালের ‘অনৈতিক’ আচরণের জন্য ২৫ হাজার টাকা জরিমানারও নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিচারপতি অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সন্তোষ ভগত নামে এক ব্যক্তি তাঁর আত্মীয়কে মূত্রথলি ও কিডনির সমস্যা নিয়ে মিশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ‘ইউআরএসএল লেজার’ ও ‘ডিজে স্টেন্টিং’-সহ সমস্ত অস্ত্রোপচারের জন্য ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকার একটি প্যাকেজ ধার্য করা হয়েছে। এই খরচের মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওষুধ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও ধরা ছিল।
অভিযোগের পাহাড়
পরিবারের অভিযোগ, ১১ সেপ্টেম্বর রোগী ভর্তি হলেও রহস্যজনক কারণে অস্ত্রোপচার করা হয় ১৪ সেপ্টেম্বর। প্যাকেজের পুরো টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরেও, ভর্তির দিন থেকে অপারেশনের আগের তিন দিনের জন্য আলাদা করে মোটা টাকা দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে সেই টাকা মেটালেও পরে কমিশনের দ্বারস্থ হয় রোগীর পরিবার।
কমিশনের কড়া পর্যবেক্ষণ
শুনানিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ‘প্যাকেজ’ কেবল অস্ত্রোপচারের দিন থেকেই কার্যকর হয়। কিন্তু এই যুক্তি নস্যাৎ করে দিয়ে বিচারপতি অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন:
* প্যাকেজ নিশ্চিত হওয়ার পরেও কেন তিন দিন ফেলে রাখা হল রোগীকে?
* সেই ক’দিনের বেড ভাড়ার দায় কেন নিতে হবে সাধারণ মানুষকে?
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সংক্রান্ত কোনও সদুত্তর বা স্পষ্ট নথি পেশ করতে ব্যর্থ হয়। এর পরেই কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্যাকেজের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা বরদাস্ত করা হবে না।
শাস্তি ও নির্দেশ
কমিশনের নির্দেশে জানানো হয়েছে:
১. প্যাকেজের বাইরে নেওয়া সমস্ত বাড়তি টাকা রোগীকে অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।
২. হাসপাতালের এই অনৈতিক বিলিং পদ্ধতির জন্য ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনকে প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের এই কড়া অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্যাকেজ রেট নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলির যে একচেটিয়া কারবার চলে, এই রায় তাতে বড়সড় ধাক্কা দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *