নিজস্ব প্রতিনিধি: বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রথম বার বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোটের বৈঠকে যোগ দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত বৈঠকে তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে একের পর এক অভিযোগ তোলেন মমতা। দাবি করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে ইস্তফা দেওয়া উচিত।
বৈঠকে ইউপিএ চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর পাশে বসে মমতা অভিযোগ করেন, ‘SIR’-এর নামে এবং বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯২ লক্ষ ভোট ‘লুঠ’ করা হয়েছে। ইভিএম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কটাক্ষ করে তাঁকে ফের ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে উল্লেখ করেন তৃণমূলনেত্রী।
মমতার কথায়, ‘‘জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে। ইভিএম কেন জ্বালানো হয়েছে? ভ্যানিশ কুমার ইস্তফা না দিলে দেশ জুড়ে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’’ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘উনি চোর, ডাকাত।’’
একই সঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগও তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, তাঁদের বাড়ি থেকে বেরোতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা থাকলেও আন্দোলন থেকে তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না বলেও বার্তা দেন তিনি।
বৈঠকে মমতার সুরেই নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ‘SIR’-এর আড়ালে পরিকল্পিত ভাবে ভোট ‘লুঠ’ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও জানান কংগ্রেস নেতা।
মমতা এবং রাহুলের পর পর আক্রমণে দিল্লির বিরোধী শিবিরের বৈঠকে নির্বাচন কমিশন-বিরোধী সুর আরও চড়েছে। বৈঠকের পর কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
