নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ক্যালেন্ডারের পাতায় হাতে সময় আর ঠিক ৩০ দিন। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। তার আগে ঘাসফুল শিবিরের পাখির চোখ এখন জন সংযোগ। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই তেড়েফুঁড়ে আসরে নামছে তৃণমূল। বিজেপি বিরোধী সুর চড়াতে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে আগামী মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ থেকেই রাজ্যের দুই প্রান্ত থেকে মেগা প্রচার শুরু করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্তর সামলাবেন মমতা, দক্ষিণে অভিষেক
দলীয় সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গ দিয়েই ভোট প্রচারের শ্রীগণেশ করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে কর্মীসভা সেরেই সোজা শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জনসভা করার কথা তাঁর। আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে বড়সড় জনসভার ডাক দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি লাগোয়া মাটিগাড়া ও ময়নাগুড়ি এলাকায় প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করবেন নেত্রী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য থাকলেও ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের পর সেখানে জমি ফিরে পেয়েছে শাসকদল। সেই ধারা বজায় রাখতেই খোদ নেত্রী এবার উত্তরের ময়দানে নামছেন।
অভিষেকের লক্ষ্য পাথরপ্রতিমা থেকে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম
নেত্রী যখন উত্তরে, দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখন দক্ষিণবঙ্গ দাপাবেন। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় প্রথম জনসভা করবেন তিনি। তবে নজর থাকছে বুধবারের সূচির দিকে। ওইদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর, কেশিয়াড়ি ও নারায়ণগড়ে প্রচার সেরে অভিষেক পৌঁছবেন নন্দীগ্রামে।
উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সেই এপিসেন্টার নন্দীগ্রামে এবার লড়াই বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের পবিত্র করের। সদ্য অভিষেকের হাত ধরে ঘাসফুলে যোগ দেওয়া পবিত্রর হয়ে নন্দীগ্রামে বিশেষ রণকৌশল সাজাচ্ছেন অভিষেক, এমনটাই খবর তৃণমূল সূত্রে।
উত্তরের জন্যও পৃথক ব্লু প্রিন্ট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার শুরু করলেও উত্তরবঙ্গ নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে অভিষেকেরও। জানা গিয়েছে, আগামী ২৬, ২৮ এবং ৩১ মার্চ উত্তরের মোট নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে জনসভা ও রোড শো করবেন তিনি। অর্থাৎ, প্রথম দফার ভোটের আগে গোটা মাস জুড়েই রাজ্যজুড়ে কার্যত ম্যারাথন দৌড় শুরু করতে চলেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘনঘন সফরের মোকাবিলায় তৃণমূলের এই ডবল ইঞ্জিন প্রচার কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।