নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ভোটের মুখে ফের তপ্ত শিল্পাঞ্চল। সরকারি দেওয়াল থেকে রাজনৈতিক প্রচারের লিখন মোছাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল দুর্গাপুরের করঙ্গপাড়া এলাকায়। অভিযোগ, কর্তব্যরত নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুর থেকে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভে শামিল হয় বিজেপি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় নামাতে হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ঘটনার সূত্রপাত
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে সরকারি দেওয়াল থেকে রাজনৈতিক প্রচারের ছবি ও স্লোগান মোছার কাজ চলছিল। দুর্গাপুর মহকুমা শাসক দপ্তরের দুই কর্মী— সূর্যকান্ত পাল ও বিট্টু গুপ্তা রবিবার দুপুরে করঙ্গপাড়ার পোস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় ওই কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পোস্ট অফিসের দেওয়ালে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দেওয়াল লিখন মোছার কাজ শেষ করে যখন ওই দুই কর্মী গাড়িতে উঠছিলেন, তখনই আচমকা একদল যুবক তাঁদের ওপর চড়াও হয়।
আক্রান্ত সরকারি কর্মী
অভিযোগ, ওই দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে কার্যত হ্যাঁচকা টানে রাস্তায় নামিয়ে আনা হয়। এরপর শুরু হয় কিল-চড়-ঘুষি। প্রকাশ্য রাস্তায় সরকারি কর্মীদের মারধরের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়। আক্রান্ত কর্মীদের দাবি, তাঁরা কেবল কমিশনের নির্দেশ পালন করছিলেন, তা সত্ত্বেও কোনও প্ররোচনা ছাড়াই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা ও থানা ঘেরাও
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ময়দানে নামে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, শাসকদলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিবাদে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা দলবেঁধে কোক ওভেন থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি। বিজেপির দাবি, “সরকারি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে এলাকায় আইনের শাসন নেই। অবিলম্বে দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।”
অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় স্তরে একে ‘জনরোষ’ বা ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে লঘু করার চেষ্টা চললেও, পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
উত্তেজনা প্রশমিত করতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে কয়েকজনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সরকারি কাজে বাধা দান এবং নিগ্রহের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বিকেলের পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকা এখনও থমথমে। কমিশনের কর্মীদের ওপর এই হামলা আসন্ন নির্বাচনে নিরাপত্তার প্রশ্নে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।