নিজস্ব সংবাদদাতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে বড়সড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। সীমান্ত জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর (BSF) নতুন আউটপোস্ট তৈরির উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিএসএফ-কে নতুন করে জমি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে হস্তান্তরিত মোট জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪২.৭৯ একর। সমাজমাধ্যমের পাতায় একটি পোস্টের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী এই তথ্য ভাগ করে নিয়েছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ৯টি সীমান্তবর্তী জেলায় এই জমি বণ্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমি বরাদ্দ করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়— প্রায় ৩৮.৮০৫ একর। এরপরই রয়েছে জলপাইগুড়ি (৩৫.১৬৫ একর) এবং কোচবিহার (২২.৯৫ একর)। এছাড়া দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতেও বিএসএফ-এর হাতে জমি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়া এলাকায় ইতিমধ্যেই প্রায় ২৭ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে বলে খবর। সীমান্ত সুরক্ষার এই কড়াকড়ির মাঝেই বিজেপি সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির জেরে সীমান্ত এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত ‘হাকিমপুর চেকপোস্টে’ অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে প্রশাসনের চিরুনি তল্লাশি শুরু হতেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। হাওড়ায় মোটর মেকানিকের কাজ করা এক বাংলাদেশি নাগরিক সংবাদ সংস্থাকে জানান, কড়াকড়ির কারণে তাঁরা এ দেশে আর কোনো কাজ পাচ্ছেন না, কেউ তাঁদের থাকতেও দিচ্ছে না। কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা রেশন কার্ড ছাড়াই দালের হাত ধরে বছর দুয়েক আগে বেআইনিভাবে এ দেশে প্রবেশ করা এই অনুপ্রবেশকারীরা এখন বাধ্য হয়েই বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন। অনুপ্রবেশ রুখতে আইনি প্রক্রিয়া আরও কঠোর করে গত ২৩ মে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলাশাসকদের (DM) একটি বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) গাইডলাইন মেনে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি এবং জেলের মেয়াদ শেষ হওয়া বন্দিদের প্রত্যাবর্তনের আগে পর্যন্ত আটকে রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত এ দেশে বেআইনিভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক এবং রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেই জেলা প্রশাসনগুলিকে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। Share Post Whatsapp Share Post navigation ফর্ম পূরণ করলেই কি সবাই টাকা পাবেন?’ অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে তীব্র কটাক্ষ কুণালের