নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ভোটের বাদ্যি বাজতেই এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে শাসক দল। আগামী ২৪ মার্চ থেকে রাজ্যে ঝোড়ো প্রচার শুরু করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার রাজ্যের দুই প্রান্ত থেকে সমান্তরালভাবে প্রচারের ব্যাটন ধরছেন। একদিকে যখন উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের প্রচার অভিযান শুরু করবেন, ঠিক সেই সময়েই দক্ষিণবঙ্গের মাটি কামড়ে লড়াইয়ের ডাক দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর ও দক্ষিণ— দুই প্রান্তেই বিরোধীদের গড়ে থাবা বসানোই এখন ঘাসফুল শিবিরের পাখির চোখ।
আগামী মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল জনসভা থেকে নিজের জেলা সফর শুরু করছেন তৃণমূল নেত্রী। দলীয় প্রার্থী সুমন কাঁজিলালের সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকেই উত্তরবঙ্গের ভোট রাজনীতির সুর বেঁধে দেবেন তিনি। আলিপুরদুয়ারের পাশাপাশি ওই দিনই মাটিগাড়া ও ময়নাগুড়িতেও মমতার জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত বিজেপি প্রভাবিত এলাকা হিসেবে পরিচিত এই জনপদগুলি থেকেই প্রচার শুরু করাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রণকৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নেত্রীর এই সফর চলবে টানা এক মাস ধরে, যেখানে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্ত ছুঁয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৪ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় তাঁর প্রথম নির্বাচনী জনসভাটি অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন অর্থাৎ ২৫ মার্চ তিনি পৌঁছে যাবেন মেদিনীপুরের উত্তপ্ত রাজনৈতিক জমিতে। শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে এ দিন তাঁর কর্মীসভা করার কথা রয়েছে। একই দিনে দাসপুর ও নারায়ণগড়েও দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে সওয়াল করবেন তিনি। অভিষেকের এই সূচি থেকে পরিষ্কার যে, প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ শাসক দল। ২৬ মার্চ থেকে তাঁর উত্তরবঙ্গ সফর শুরু হচ্ছে, যেখানে নাটাবাড়ি, ধূপগুড়ি ও কালচিনির মতো এলাকায় রোড-শো ও সভা করবেন তিনি।
তৃণমূল সূত্রের খবর, ৩১ মার্চ পর্যন্ত অভিষেকের সূচি কার্যত নিশ্ছিদ্র। উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে বিনপুর, পাঁশকুড়া পূর্ব ও কাঁথিতে সভা সেরে তিনি ফের বালুরঘাট, তপন ও সন্দেশখালির মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে জনসভা করবেন। দলীয় কর্মীদের প্রতি ইতিমধ্য়েই ‘রাস্তা থেকে মাটি কামড়ে লড়াই’ করার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, সেই মেজাজেই উত্তর থেকে দক্ষিণে টানা প্রচারে ঝাঁপাতে চলেছেন অভিষেক। বাগমুণ্ডি থেকে শীতলকুচি— কার্যত সারা রাজ্য চষে ফেলে শাসক দলের পালে হাওয়া টানাই এখন জোড়াফুল শিবিরের প্রধান কৌশল।