নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি জানিয়ে দিলেন, চাকরি বা শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে কেউ সরাসরি তাঁর কাছে দরবার করলে কোনও কাজ হবে না। এ ব্যাপারে দলের স্থানীয় ‘মণ্ডল সভাপতি’ এবং ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর মাধ্যমেই আসতে হবে।
সোমবার দুর্গাপুরের গ্রাফাইট ইন্ডিয়া কারখানার গেটে বিএমএস-এর উদ্যোগে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সেখানেই দুর্গাপুর পূর্ব ও দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের দুই বিজেপি বিধায়ককে সংবর্ধনা জানানো হয়। সেই মঞ্চ থেকেই দলীয় সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নের রাশ শক্ত করার বার্তা দেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক। চন্দ্রশেখরবাবু সাফ জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ মানুষকে প্রথমে সংশ্লিষ্ট মণ্ডল সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। মণ্ডল সভাপতির মাধ্যমে সেই বিষয়টি পৌঁছবে বিএমএস শ্রমিক সংগঠনের কাছে। আর শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংগঠনই। তবে বিএমএস-এর তরফে কোনও নথিতে জনপ্রতিনিধির স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে, তাঁরা বিধায়ক হিসেবে সব রকম সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
একই সঙ্গে এসআরএমবি গ্রাফাইট কারখানায় শ্রমিক নিয়োগে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন বিধায়ক। তিনি দাবি করেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি কোনও ধরনের দুর্নীতি হয়ে থাকে, তবে তার সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বদলের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও বলেন, গ্রাফাইট কারখানার সামনে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়টি যাতে শ্রমিকদের বিশ্রামের জন্য ব্যবহারযোগ্য করে দেওয়া হয়, তার জন্য তিনি গ্রাফাইট ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাবেন। সভায় তৃণমূল নেতা খোকন রুইদাসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিধায়ক বলেন, “দুর্নীতির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
অন্য দিকে, এই মঞ্চ থেকেই শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান ও শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষার বার্তা দিয়েছে সঙ্ঘ পরিবার ঘনিষ্ঠ শ্রমিক সংগঠন বিএমএস। ভারতীয় মজদুর সংঘের জেলা সম্পাদক মৃন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নতুন সরকার গঠনের পর তাঁদের প্রধান লক্ষ্যই থাকবে যাতে স্থানীয় বেকার যুবক ও শ্রমিকরা এই শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পান।” এর পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা, প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ), গ্র্যাচুইটি এবং ইএসআই-সহ বিভিন্ন শ্রমিক কল্যাণমূলক সুবিধা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও তিনি শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছেন।
তবে বিধায়কের এই ‘মণ্ডল সভাপতি ভায়া সংগঠন’ তত্ত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধির চেয়ে দলীয় পদাধিকারী বা নির্দিষ্ট সংগঠনের সিদ্ধান্তই কি তবে শেষ কথা? শিল্পাঞ্চলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এই মন্তব্য আগামী দিনে বিতর্ক আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *