নিজস্ব সংবাদদাতা: লোকসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজাতে উত্তরবঙ্গকেই বেছে নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে দলীয় প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে বিজেপিকে চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন তিনি। গেরুয়া শিবিরকে ‘ভ্যানিশ পার্টি’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি এনআরসি (NRC) এবং ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানালেন, “আমি বেঁচে থাকতে বাংলায় কোনো ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না।”
এ দিন ময়নাগুড়ির সভা থেকে একদিকে যেমন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেছেন নেত্রী, তেমনই বিঁধেছেন কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেও। সভা থেকে মমতা জানান, জলপাইগুড়ি জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার ২৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। জল্পেশ শিব মন্দিরে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হওয়া স্কাইওয়াক ও মহাকাল মন্দিরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা শুধু কথা দিই না, কাজ করে দেখাই।”
নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মহিলাদের জন্য আরও এক বার বড় ঘোষণা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি জানান, ৬০ বছর পার হলেও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। ১ এপ্রিল থেকেই বর্ধিত টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক অকালবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “ফসল বিমা করা আছে, দুশ্চিন্তার কারণ নেই। প্রত্যেকেই ক্ষতিপূরণ পাবেন।”
বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপি একটা হিংসুটে দল। এনআরসি-র নামে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিয়ের পর মেয়েদের পদবী বদলালে তাদের নামও কেটে দিচ্ছে ওরা।” নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপির চিহ্ন থাকছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির পতাকা নিয়ে ঘুরছে। মধ্যরাতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করাকে ‘গণতন্ত্রের লজ্জা’ বলে অভিহিত করেন নেত্রী।
পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মোদী সরকারকে আক্রমণ করে তাঁর মন্তব্য, “বিজেপির গ্যাস বেলুনের গ্যাস বেরিয়ে গিয়েছে।” ময়নাগুড়ির তৃণমূল প্রার্থীকে গাছে বেঁধে মারার হুমকির প্রসঙ্গে তিনি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ওরা ভুলে গেছে গাছটাও তৃণমূলের। ভোটের ফল বেরোলে ওরাই বলবে আমরা বিজেপি করি না।”