নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম: বীরভূমের লাভপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা ঘিরে শনিবার বিকেলের শেষলগ্নে তৈরি হল চরম উত্তেজনা। সভা শেষ করে অভিষেক মঞ্চ ছাড়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিধ্বংসী আগুন লাগে মূল মঞ্চে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখা দেখে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। তবে সৌভাগ্যবশত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় মঞ্চে ছিলেন না, ফলে এক বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন তিনি।
শনিবার লাভপুরের দলীয় প্রার্থী অভিজিৎ সিনহার সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’। জনসভা শেষে তিনি যখন সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, তখনই মঞ্চের এক কোণ থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একটি স্তম্ভে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সেখানে উপস্থিত দলীয় কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দমকল বাহিনীর তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিক তদন্তে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপত্তি। তবে নাশকতার কোনও ছক ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের সেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির আগে অবশ্য এদিন লাভপুরের মাটি থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন অভিষেক। তাঁর সাফ কথা, “এবারের লড়াই বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামানোর লড়াই।” কেন্দ্রীয় বঞ্চনা থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম— একাধিক ইস্যুতে মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।
স অভিষেক জানান, আগামী ৫ বছরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে তপশিলি পরিবারগুলি মোট ১ লক্ষ ২ হাজার টাকা পাবে। বিজেপির ৩ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ক্ষমতা থাকলে আগে বিজেপি শাসিত ১৫টি রাজ্যে এই টাকা দিয়ে দেখাক।”পাশাপশি কেন্দ্রের টাকা আটকে রাখা নিয়ে সরব হয়ে তাঁর ঘোষণা, দিল্লি টাকা না দিলেও আগামী ৫ বছরে রাজ্যের প্রতিটি যোগ্য নাগরিককে পাকা বাড়ি দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ৬ মাসের মধ্যে বার্ধক্য ভাতা মঞ্জুর ও ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি। একই সঙ্গে রামনবমীকে কেন্দ্র করে বিজেপি অশান্তি ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অভিষেক। গেরুয়া শিবিরকে ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে তাঁর তোপ, “বিজেপি ঘর ভাঙার রাজনীতি করে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের হাতে অধিকার তুলে দেন।” বীরভূমে তৃণমূল প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান ‘৬০ হাজার’ করার ডাক দিয়ে এদিন দিল্লির ‘স্বৈরাচারী’ শাসনের অবসানের ডাক দেন তিনি।
সভা শেষে ‘ভয় বনাম ভরসা’র লড়াইয়ে সাধারণ মানুষকে তৃণমূলের পাশে থাকার আহ্বান জানান অভিষেক। তবে রাজনৈতিক এই বাগযুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই মঞ্চের আগুনের ঘটনা বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।