২৬-এর নির্বাচনে বিপূল জয়ে বিরাট ‘আত্মবিশ্বাসী’ মমতা

সঙ্কেত ডেস্ক::কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে জনসভা থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়। ১০০ দিনের কাজের টাকা শর্ত সাপেক্ষে ছাড়ার কেন্দ্রের চিঠি সভামঞ্চেই ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান তিনি।মমতা বলেন, “হাইকোর্ট অর্ডার দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অর্ডার দিয়েছে। তাও বিজেপি সরকার ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে। সেই টাকা আদায়ে যখন আমাদের সাংসদরা দিল্লি গিয়েছিল তখন তাদের নামে কেস দেওয়া হয়েছে”। বাংলার সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘আবাস যোজনায় এক নম্বরে, গ্রামীণ সড়ক যোজনতেও শীর্ষে ছিল বাংলা। সব বন্ধ করে দিয়েছে। ভালো কাজ করা অপরাধ? রিভিউয়ের নামে ১৮৬টা কেন্দ্রীয় টিম পাঠিয়েছিল। আমি নিজে অনেকবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসেছি। ১০০ দিনের কাজের জন্য ৫১,৬১৭ কোটি এখনও পাইনি”। হাইকোর্ট–সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে টাকা আটকে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “আমাদের দয়ার দানের দরকার নেই। মা-বোনেরা জানে কোথা থেকে অথিতিদের খাবারটা দিতে হবে। ১০০ দিনের বিকল্প কর্মশ্রী প্রকল্প ইতিমধ্যে রাজ্য চালু করেছে। ৭৮ লক্ষের বেশি মানুষকে জব কার্ড দেওয়া হয়েছে। বাংলা কোনওদিন মাথা নত করেনি, করবেও না। আবার আমরা ক্ষমতায় আসব। ১০০ দিনের কাজ এবার বাংলা নিজে করে দেখাবে। তোমাদের ভিক্ষে আমরা চাই না। তোমরা এখন হাটি হাটি পা পা করে করে যাও, বাংলাকে ভুলে যাও”।

SIR–NRC ইস্যুতে কেন্দ্র “এক কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে” বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্যে প্রতিটি পঞ্চায়েতে ‘May I Help You’ ক্যাম্প করার কথা ঘোষণা করেন।

বাংলা লক্ষ্মী ভাণ্ডারের সাফল্য এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাংলার শীর্ষস্থানের কথা তুলে ধরেন মমতা ,বিহারের উদাহরণ টেনে বিজেপিকে এদিন নিশানা করেন দলনেত্রী। পাশাপাশি ভোটের আগে বিহারে বিজেপির ১০ হাজার টাকার পালটা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলায় লক্ষ্মী ভান্ডার পাচ্ছে ২ কোটি ২১ লাখ পরিবার। ৫ বছরে ৬০ হাজার টাকা দিচ্ছি, সংখ্যালঘুরা লক্ষ্মী ভাণ্ডারের মাধ্যমে পেয়েছে ৭০ হাজার টাকা, “বাংলা মাথা নত করেনি, করবেও না। ২০২৬-এ আমরা আবার ক্ষমতায় আসব।”

বাংলার ইতিহাস ও মনীষীদের ‘অপমান’, এজেন্সির অপব্যবহার এবং বাংলার উপর “রাজনৈতিক অত্যাচর”-এর অভিযোগ তুলেও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন তিনি। দলের ভেতর গোষ্ঠীকোন্দল নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়ে মমতার মন্তব্য, “বড় লড়াইয়ের আগে দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *