নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা:তপ্ত রোদের প্রখর দাহ ছিল, ছিল রাজনৈতিক উত্তাপও। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে গেল গণতন্ত্রের প্রতি বাংলার মানুষের অমোঘ টান। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় নজিরবিহীন ভোটদানের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত রাজ্যে গড় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯১.৪৬ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইতিহাসে এই হার কার্যত ‘রেকর্ড’।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে শুরু হয়েছিল মহাযুদ্ধের প্রথম পর্ব। উত্তরবঙ্গের পাহাড়-তরাই থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল— সবর্ত্রই ছবিটা ছিল এক। ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ভোটারের রায় ইভিএম-বন্দি করতে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ভোটগ্রহণ চলে। তীব্র গরম উপেক্ষা করেই বুথের সামনে দেখা গিয়েছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য এখন বাক্সবন্দি, যার মধ্যে নজরকাড়া উপস্থিতি ছিল ১৬৭ জন মহিলা প্রার্থীর।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত যেখানে ভোটের হার ছিল ৮৯.৯৩ শতাংশ, ৬টার মধ্যে তা লাফিয়ে ছাড়িয়ে যায় ৯১ শতাংশের গণ্ডি। কমিশন সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ের আগে যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের ভোটদান পর্ব রাত অবধি চলতে পারে। ফলে এই শতাংশ আরও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ভোটের এই জোয়ার কার পালে হাওয়া দিচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলিমুদ্দিন থেকে মুরলিধর লেন কিংবা কালীঘাট— সবর্ত্রই শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, এই বিপুল ভোটদান কি ‘পরিবর্তনের’ ঝোড়ো হাওয়া? অন্য অংশের মতে, এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ওপর মানুষের পুনরায় ‘আস্থার’ প্রতিফলন।শাসক দল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি— দুই শিবিরই এই উচ্চ হারকে নিজেদের সপক্ষে বলে দাবি করছে। তবে এই ‘গণতন্ত্রের উৎসবে’ শেষ হাসি কে হাসবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৪ মে পর্যন্ত। সেদিনই স্পষ্ট হবে বাংলার মসনদে বসার চূড়ান্ত রায়।