কৈশোরের জিজ্ঞাসা নিরসনে দুর্গাপুরে “বেধড়ক বলো” প্রকল্পের সচেতনতা শিবির
নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: বয়ঃসন্ধিকাল মানেই একরাশ কৌতূহল আর একরাশ আড়ষ্টতা। শরীরের বদল আর মনের অজানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেক সময়ই ভুল পথে চালিত হয় কিশোর-কিশোরীরা। তাদের সেই জড়তা কাটাতে এবং বিজ্ঞানসম্মত দিশা দেখাতে দুর্গাপুরে বিশেষ উদ্যোগ নিল ‘সুন্দরম ক্রিয়েটিভ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ ও NSPCL। তাদের যৌথ প্রয়াস “বেধড়ক বলো” (Bedharak Bolo) প্রকল্পের অধীনে আজ দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর মেঘনাদ সাহা স্কুলে একটি উচ্চপর্যায়ভুক্ত সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য
বয়ঃসন্ধিকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য বা Adolescent Reproductive Sexual Health (ARSH) সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিক ধারণা দেওয়াই ছিল এই শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকায় আজও এই বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলতে সঙ্কোচ বোধ করেন অনেকে। সেই সামাজিক বাধা ভেঙে কিশোর-কিশোরীরা যাতে নির্ভয়ে নিজেদের সমস্যার কথা বিশেষজ্ঞের কাছে প্রকাশ করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই নামকরণ— “বেধড়ক বলো”।
এদিনের কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ সুব্রত বোস এবং ডাঃ কিসকু। তাঁরা ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলি তুলে ধরেন। বয়ঃসন্ধিতে ছেলে ও মেয়েদের শারীরিক যে স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলো আসে, তা নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা।এই বয়সে স্বাস্থ্যবিধি বা হাইজিন মেনে চলা কতটা জরুরি, তা বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়।
হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মেজাজ পরিবর্তন (Mood swings) বা অহেতুক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির উপায়।
চিকিৎসকদের পাশাপাশি এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের অন্যতম কারিগর জয়শ্রী নাগ, বিপ্লব কুমার সিনহা এবং মেঘনাদ সাহা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শেলী মাঝি। প্রধান শিক্ষিকা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “পুথিগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে জীবনমুখী এই শিক্ষা আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাবলম্বী ও সচেতন করতে সাহায্য করবে।”

স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা অত্যন্ত উদ্দীপনার সঙ্গে এই কর্মশালায় অংশ নেয়। অনেক পড়ুয়াই এতদিন মনে পুষে রাখা প্রশ্নগুলো সরাসরি চিকিৎসকদের কাছে তুলে ধরে সমাধান পায়। সুন্দরম ক্রিয়েটিভ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজ থেকে বয়ঃসন্ধি নিয়ে গড়ে ওঠা ভ্রান্ত ধারণা বা ‘ট্যাবু’ দূর করতে এই ধারাবাহিক সচেতনতা মূলক কর্মসূচি আগামী দিনে অন্যান্য স্কুলেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। অভিভাবক মহল থেকে শুরু করে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ— সকলেই এই বিশেষ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।