ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগে বেলডাঙায় জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ
সঙ্কেত ডেস্ক:ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে শুক্রবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বেলডাঙা। মৃতদেহ নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি রেল রোকো কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সকাল থেকেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়ায় চরম উত্তেজনা।
নিহত শ্রমিকের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৩৭)। তাঁর বাড়ি বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। পেশায় ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিন কাজের সূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার তাঁর থাকার ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তবে পরিবারের দাবি, তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক হওয়ার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।এই ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকেই রাস্তায় নামেন সুজাপুর ও কুমারপুর গ্রামের বাসিন্দারা। বেলডাঙার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর ফলে কলকাতা-উত্তরবঙ্গ সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দু’দিকে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজট তৈরি হয়। কয়েকশো পণ্যবাহী ট্রাক ও বাস আটকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।বিক্ষোভের প্রভাব পড়ে রেলপথেও। বেলডাঙা স্টেশনের কাছে ট্রেন অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এতে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ঝাড়খণ্ড প্রশাসনের সঙ্গে অবিলম্বে যোগাযোগ করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে এবং নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।পুলিশ বারবার অবরোধ তুলতে অনুরোধ করলেও উত্তেজিত জনতা পিছিয়ে যেতে রাজি হননি। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এই ঘটনায় রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।গোটা ঘটনা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের দিকে আঙুল তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে অশান্তি ঘটছে, সেটার নেপথ্যে কাদের প্ররোচনা আছে, তা সকলেই জানেন। কিন্তু কারও প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, অশান্তি ছড়ানোর জন্য উস্কানি দিচ্ছে বিজেপি। এমনকী কেন্দ্রীয় এজেন্সিকেও সেই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।