নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ভোটের ঘণ্টা বাজতেই দুর্গাপুরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। রবিবার সকালে দুর্গাপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়ুরিয়াডাঙ্গা এলাকায় শাসক শিবিরের পালে নয়া হাওয়া লাগল। বাম ও গেরুয়া শিবির ছেড়ে একঝাঁক কর্মী-সমর্থক যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। বিশেষত, দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম— দুই কেন্দ্রের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতিতে এই যোগদান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এ দিন বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ কুড়ুরিয়াডাঙ্গায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী মন্ত্রী তথা দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার এবং দুর্গাপুর পশ্চিমের প্রার্থী কবি দত্ত। দুই প্রার্থীর উপস্থিতিতেই এলাকার পরিচিত মুখ উজ্জ্বল বাউরী-সহ একাধিক বাম ও বিজেপি কর্মী তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন। ভোটের লড়াইয়ে নামার আগে দুই কেন্দ্রের প্রার্থীর একই মঞ্চে থেকে বিপক্ষ শিবিরে ভাঙন ধরানোকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দলত্যাগী নেতারা সাফ জানিয়েছেন, কেন তাঁরা পুরনো শিবিরের মোহত্যাগ করলেন। তাঁদের কথায়,মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেওয়া জনমুখী প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের নিরিখেই তাঁরা জোড়াফুল শিবিরের প্রতি আস্থাশীল হয়েছেন। বিরোধী শিবিরের দিশাহীন রাজনীতি ছেড়ে শাসকদলের সংহতি রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।
এ দিন প্রদীপ মজুমদার ও কবি দত্ত নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান। প্রদীপবাবু জানান, “মানুষ বুঝতে পারছেন উন্নয়ন কার হাত ধরে আসছে। এই যোগদান আমাদের শক্তি আরও বাড়িয়ে দিল।” অন্যদিকে, কুড়ুরিয়াডাঙ্গার মতো এলাকায় বিরোধী শিবিরে এই ভাঙন বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় থাবা বসাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় বিজেপি ও সিপিএম নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, “ভোটের মুখে সুবিধাবাদীদের ভিড় বাড়ছে শাসকদলে, এতে নিচুতলার কর্মীদের ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না।” তবে দিনের শেষে দুই প্রার্থীর হাত ধরে এই দলবদল যে দুর্গাপুরের নির্বাচনী পারদ আরও চড়িয়ে দিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।